কোরআনের আইনের বিরুদ্ধে হাত দেওয়ার পরিণতি ভালো হবে না: গোলাম পরওয়ার
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৯ পিএম | ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে সংসদে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে সরকার চরম দুঃসাহস দেখিয়েছে। কোরআনের বিধানের বিরুদ্ধে হাত দেওয়ার পরিণাম শুভ হবে না এবং এর আগুনে সরকার নিজেই ছারখার হয়ে যেতে পারে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অধিকার, গণভোট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট ও সার সংকটের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। কিন্তু গতকাল (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শরিয়াহ পরিপন্থী ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাস করা হয়েছে। হেবা ও ওসিয়ত সংক্রান্ত এসব বিধান সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত। সরকারের মন্ত্রীরা এই বিধান লঙ্ঘন করে কোটি কোটি মুসলিমের ঈমানি অনুভূতির ওপর চরম আঘাত হেনেছেন।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৬১ সালে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান এই পারিবারিক আইন বদলানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সর্বস্তরের আলেম সমাজ ও মুসলমানদের আন্দোলনের মুখে তিনি তা পারেননি। এমনকি ১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ আমলেও ঔপনিবেশিক সরকার মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়ার সাহস পায়নি। কিন্তু আজ এই সরকার সেই দুঃসাহস দেখিয়েছে।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বলেছেন ইসলামি আইন নাকি আধুনিক জগতে চলে না। ধিক্কার জানাই এমন বক্তব্যের! ইসলাম একটি কালজয়ী জীবনবিধান। এটি কিয়ামত পর্যন্ত মানবসভ্যতার একমাত্র ভারসাম্যপূর্ণ পথ নির্দেশক।’
বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া প্রতিরোধে হেবা আইনের কার্যকারিতার যুক্তি খণ্ডন করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন করা হয়েছে। সন্তানকে সঠিকভাবে ইসলামি মূল্যবোধে গড়ে তুললে কোনো পিতা-মাতা অপদস্থ হন না। মূল সমস্যা সমাধান না করে ইসলামবিরোধী পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলের মতামত উপক্ষোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সংসদে আমাদের বিরোধী দলের নেতা ও এমপিরা প্রতিবাদ করেছেন, ওয়াকআউট করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়া বোর্ড বা দেশের শীর্ষ স্কলারদের মতামত নিতে তারা অনুরোধ করেছিলেন। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলারদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার কোনো তোয়াক্কা না করে কাল রাতের আঁধারে এই কালো আইন পাস করেছে।’
গুম অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে যেন যারা গুম করবে তারাই তদন্ত করবে। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করে সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে যা সম্পূর্ণ প্রহসন।
বক্তব্যের শেষে তিনি সরকারকে অনতিবিলম্বে এই আইন প্রত্যাহার করে ওলামায়ে কেরামের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় গণভোট ও জনদাবি উপেক্ষার ফলে রাজপথে গড়ে ওঠা আন্দোলনের দাবানলে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
আরআই/টিএ