শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ফাঁসি চাইলেন ছাত্রদল নেতা টিপুর স্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০২:১৮ পিএম | ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রসফায়ারে দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের ফাঁসি দাবি করেছেন ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে জবানবন্দি শেষে তিনি এ বিচার চান। এ মামলায় ২০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দির একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমা আক্তার বলেন, আমার দুটি মেয়ে রয়েছে। স্বামী হত্যাকাণ্ডের সময় তারা খুব ছোট ছিল। দেশে যেন এমন কোনো ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য নিজে ও সন্তানদের পক্ষে আমি বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম এহসান উল্লাহসহ গ্রেপ্তার যে দুই পুলিশ সদস্য আমার স্বামীকে ক্রসফায়ারে হত্যা হত্যা করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার প্রার্থনা করছি। এসব কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাক্ষী।
টিপু আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার অপরজন হলেন একই উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই জবানবন্দি দেন টিপুর স্ত্রী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ।
এর আগে, ২০ মে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু ও কবির ছিলেন আবুল হাসানাতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এজন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেন তিনি। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে তৎকালীন এসপি একেএম এহসান উল্লাহকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মিথ্যা মামলায় ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দুজনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। এরপর মাহাবুল ও জসিমকে দিয়ে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে টিপু ও কবিরকে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়।
এফআর/এসএন