মুক্তার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়, স্বামীর ফোনে নির্যাতনের ভিডিও
ছবি: সংগৃহীত
১১:৪৫ এএম | ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকার খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলাম নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর সোহেলের জব্দ করা মোবাইল ফোনে মুক্তাকে নির্যাতনের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মুক্তার ছোট ভাই তানভীর খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সোহেলকে প্রধান আসামি করে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব ভৌমিক দেশের একটি গণমাদমকে বলেন, ‘সোহেলের মোবাইল ফোনেই নির্যাতনের ওই ভিডিও পাওয়া গেছে।’
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওতে মুক্তাকে বারবার মারধর করতে দেখা যায় সোহেলকে। পাশের কক্ষে তাদের দুই সন্তানের কান্নার শব্দও শোনা যায়।
পুলিশ জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর সোহেল মুক্তার ভাই তারেক রহমানের কাছে ভিডিওটি পাঠান। একই সঙ্গে একটি বার্তায় তারেককে তার বোনকে নিয়ে যেতে বলেন তিনি।
এর দুই দিন পর, ৩ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের বাসায় গিয়ে মুক্তার স্বজনরা তার মরদেহ দেখতে পান।
তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব ভৌমিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মুক্তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে নির্যাতনের ভিডিও পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল মুক্তা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন। কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে তিনি মুক্তাকে মারধর করেছিলেন বলেও দাবি করেন। তবে তার এ দাবি এখনো যাচাই করা হয়নি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
প্রায় সাড়ে সাত বছর আগে মুক্তা ও সোহেলের বিয়ে হয়। দুজনেরই বাড়ি বরিশালে। প্রায় ১৫ বছর আগে মুক্তার বাবা মারা যান। তার মা ও দুই ভাই বর্তমানে মুন্সিগঞ্জে বসবাস করেন।
মুক্তার স্বজনরা জানান, প্রথমে সোহেলের একটি মুদি দোকান ছিল। পরে এমব্রয়ডারি ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর পান-সুপারির ব্যবসা শুরু করেন।
মুক্তার বড় ভাই তারেক একটি আইসক্রিম প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি জানান, প্রায় এক মাস আগে মুক্তা ও সোহেল মুন্সিগঞ্জের বাড়িতে যান। মুক্তা সেখানে ১৭ দিন অবস্থান করলেও সোহেল ছিলেন মাত্র তিন দিন।
তারেকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সোহেল ব্যবসার জন্য তার কাছে ৩ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। তিনি টাকা দিতে রাজি হলেও সোহেল বরিশালে গিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন। তারেক তাকে বরিশালের পরিবর্তে ঢাকায় ব্যবসা করার পরামর্শ দেন।
তারেকের অভিযোগ, ‘এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোহেল আমার বোনকে হত্যা করে থাকতে পারে।’
তবে মুক্তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।