উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ছড়িয়ে দিতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৯ পিএম | ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দেশের প্রান্তিক ও উপজেলা পর্যায়ে কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা না থাকাকে বড় ধরনের ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, তৃণমূলের এই সংকট দূর করতে ‘কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়া হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ফ্রম সাইলেন্স টু অ্যাকশন: চেঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড অ্যামং ইয়ুথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

আঁচল ফাউন্ডেশন এবং হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, “দেশে ইনস্টিটিউট এবং বিশেষায়িত হাসপাতালের বাইরে প্রান্তিক মানুষের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা পর্যায়ে একজন মানুষ বিষণ্নতা, মানসিক চাপ বা সুইসাইডাল আইডিয়াশনে ভুগলে কোথায় যাবেন, কীভাবে সহায়তা পাবেন—সে বিষয়ে জানার কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। এই শূন্যতা কাটাতেই আমরা কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্পের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছি। এখানে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে টেলি-কাউন্সেলিং চালু করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানসিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সাইকিয়াট্রিস্ট ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সমন্বিত রেফারেল চেইনের আওতায় তৃণমূলের মানুষকে নিয়ে আসা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


আত্মহত্যার প্রবণতা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিদ্যমান সামাজিক ট্যাবু দূর করার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭ লাখ মানুষ আত্মহত্যায় মারা গেলেও আত্মহত্যার চিন্তায় ভোগা মানুষের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেশি। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনও পরিবারগুলো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং দোষারোপের সংস্কৃতি তৈরি হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সবার সঙ্গে কথা বলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ‘ইটস গুড টু টক’ শীর্ষক সচেতনতামূলক প্রচারণার ধারণাও তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্মহত্যা কোনো অপরাধ নয়, অথচ বিদ্যমান আইনে একে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে যা সামাজিক স্টিগমাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এ সংক্রান্ত আইনি ধারাগুলো পর্যালোচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আইনগত এই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার বিষয়ে সংসদে যৌক্তিক উদ্যোগ নিতে তিনি আগ্রহী।
বক্তব্যের শেষভাগে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ‘পিক সময়’ আসার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে সরকার এ নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। সংক্রমণ ও মৃত্যু কমাতে তিন মাসব্যাপী বিশেষ সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন শুরু করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সারা দেশের ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জনদের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালে স্যালাইন, বেড ও টেস্টিং কিটের কোনো সংকট যাতে না হয়, সে জন্য দুই মাস আগেই পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সংকটের সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলো যেন ডেঙ্গু ডেডিকেটেড বেড চালু রাখে এবং অতিরিক্ত ফি আদায় না করে, সে বিষয়েও তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দেন।
টিএ/