© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এক ভিসায় যাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

শেয়ার করুন:
এক ভিসায় যাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩১ পিএম | ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
একটি ভিসা নিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। এর আওতায় একই ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত ভ্রমণ করা যাবে।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই জানিয়েছেন, একীভূত এই পর্যটন ভিসা চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে এবং এটি শিগগিরই চালু হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

শেনজেনের মতো এক ভিসায় ছয় দেশ

গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে জিসিসি মহাসচিব একীভূত পর্যটন ভিসার বিষয়ে কথা বলেন।

এই ভিসা চালু হলে একজন বিদেশি পর্যটককে প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা ভিসা নিতে হবে না। একটি ভিসার মাধ্যমেই জিসিসির ছয় সদস্যদেশে ভ্রমণ করা যাবে। ইউরোপের শেনজেন ভিসার মতোই আঞ্চলিকভাবে পর্যটকদের চলাচল সহজ করবে এই ব্যবস্থা।

তবে ভিসাটি ঠিক কবে চালু হবে, এর ফি কত হবে, কতদিন কার্যকর থাকবে এবং আবেদনের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

২০২৩ সালে অনুমোদন, বাস্তবায়নের পথে

একীভূত পর্যটন ভিসা চালুর উদ্যোগটি অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে একীভূত পর্যটন ভিসার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। একই বছরের নভেম্বরে জিসিসির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও এটির অনুমোদন দেন।

এরপর পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যায়। ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি জানিয়েছিলেন, একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসা অনুমোদিত হয়েছে এবং এখন এটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি তখন বলেছিলেন, একক ভিসা ব্যবস্থা আঞ্চলিক সংহতি জোরদারের পাশাপাশি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি অভিন্ন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিমান ভ্রমণেও সহজ হচ্ছে যাতায়াত

জিসিসির মহাসচিব একই অনুষ্ঠানে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মানুষের চলাচল সহজ করতে আরও কয়েকটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ প্রকল্প অন্যতম। এ ব্যবস্থায় যাত্রীরা একটি বিমানবন্দরেই পাসপোর্ট ও অভিবাসনসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারবেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়।

এই ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক সংযোগ, বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই ও স্বয়ংক্রিয় প্রবেশপথের মাধ্যমে যাত্রীর তথ্য আগেই যাচাই করা হয়। ফলে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পুনরায় অভিবাসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয় না।

তবে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ এবং ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ একই প্রকল্প নয়।

সিঙ্গেল-পয়েন্ট ভ্রমণ ব্যবস্থা মূলত জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করার জন্য নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসার লক্ষ্য হলো বিদেশি পর্যটকদের জন্য ছয়টি উপসাগরীয় দেশে ভ্রমণ সহজ করা।

একীভূত পর্যটন ভিসা চালু হলে এক সফরেই ছয়টি দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে নতুন গতি আসার পাশাপাশি অঞ্চলটিকে একটি অভিন্ন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরালো হবে।

এসএন 

মন্তব্য করুন