বাংলাদেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না: বিরোধীদলীয় নেতা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪১ পিএম | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেবো না। এই দেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ওইটা আর রিওপেন হবে না। আমাদেরকে সেই জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখন থেকেই শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে এবং সাহসের সঙ্গে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে হবে। এখানে আলোচনা হবে, লড়াইও হবে, তবে সমানে সমান।
তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের সঙ্গে সৎ সম্পর্ক চায়, আমরাও চাই। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সৎ ও সুসম্পর্ক থাকুক, সেটিও আমরা চাই। তবে সত্যিই যদি আমরা সৎ প্রতিবেশী হতে চাই, তাহলে উভয় পক্ষকেই নিজেদের সদিচ্ছা প্রকাশ করতে হবে।
একাত্তর-পরবর্তী লুটপাট, দুঃশাসন, বাকশাল ও রক্ষীবাহিনী গঠনের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। জনগণের কণ্ঠস্বর দমনে গঠিত রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষ না খেয়ে ফুটপাতে মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, যে বছরে আওয়ামী লীগ দায়িত্ব নিল, সে বছরই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা। সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, তা আজ পর্যন্ত অজানা। আজ পর্যন্ত যে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এর ফলে সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআর—দুই বাহিনী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দোষী, অপরাধী, চোর ও লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। অথচ পালিয়ে গিয়েও তারা বারবার এই জাতিকে বিরক্ত করছে—‘এই আসি, ওই আসি’ বলে। বলি, এত আসি আসি করেন, গেলেন কেন?
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তাহলে মাটি কামড়ে দেশে থাকতেন। অপরাধ করলে শাস্তি নিতেন, আর অপরাধ না করলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতেন। তিনি বলেন, সৎ মানুষ দেশ ছেড়ে পালায় না, ফাঁসি হলেও ফাঁসির মুখোমুখি হবে, জেলে নিলেও জেলে যাবে, কিন্তু দেশ ছেড়ে পালাবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেভাবে এগিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই বিচারকাজের গতি আর দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে গার্মেন্টস খাতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে দেশে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে রক্ষায় সরকারকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদের তিনটি বিলে বিরোধীদল আপত্তি তুলেছেন উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। এসব আইন জনগণকে নয়, বরং সরকারকে সুবিধা দেবে।
সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন না।
এমআর/টিএ