© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় মিটার রিডারকে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখলেন গ্রাহকেরা

শেয়ার করুন:
বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় মিটার রিডারকে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখলেন গ্রাহকেরা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২২ পিএম | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডারকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। পরে অতিরিক্ত বিল সংশোধন ও ত্রুটিপূর্ণ মিটার পরিবর্তনের আশ্বাসে তাঁকে মুক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের কালিতলা মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের মিটার রিডার সবুজ বিলের তথ্য সংগ্রহের জন্য কালিতলা মধুপুর গ্রামে গেলে ক্ষুব্ধ এক গ্রাহক তাঁকে আটকে রাখেন। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা সেখানে জড়ো হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা-পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।

বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে অনেকের বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বেড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০০ টাকার বিল এক লাফে ১ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আগের মাসে মিটারে ৮০ ইউনিট ব্যবহার দেখানো হলেও চলতি মাসে তা এক লাফে ৩৭০ ইউনিট করা হয়েছে। পরিবারে বিদ্যুতের ব্যবহার বা কোনো সরঞ্জাম না বাড়লেও বিলের এমন অস্বাভাবিক লাফের কোনো সদুত্তর অফিস দিতে পারছে না।'

সুলতান আলী নামের আরেক গ্রাহক জানান, ২০০ টাকার বিল হঠাৎ ১ হাজার ৯০০ টাকা আসায় তিনি হতবাক। বারবার অফিসে যোগাযোগ করেও গ্রাহকেরা প্রতিকার না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, মিটার রিডাররা নিয়মিত সরেজমিনে না গিয়ে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে রিডিং দেন। পরবর্তী সময়ে সেই ঘাটতি সমন্বয় করতে গিয়ে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপানো হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের এনফোর্সমেন্ট কো-অর্ডিনেটর নির্মল রায় বলেন, 'আগে দায়িত্বে থাকা এক মিটার রিডার মাঠে না গিয়ে ঘরে বসে রিডিং দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে সরিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল যাচাই-বাছাই করে সংশোধন ও ত্রুটিপূর্ণ মিটার পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা মিটার রিডারকে ছেড়ে দেন।'

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. হামিদুল হক বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। বিলসংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল আহমেদ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে অবরুদ্ধ মিটার রিডারকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এফআর/টিএ

মন্তব্য করুন