যুক্তরাষ্ট্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ ডিজেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২৯ পিএম | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ক্রমাগত ড্রোন হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ফুয়েল ট্র্যাককারী প্রতিষ্ঠান 'গ্যাসবাডি' এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে ডিজেল অত্যন্ত জরুরি একটি জ্বালানি। পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রেন, জাহাজ, ভারী যন্ত্রপাতি এবং কৃষিকাজের আধুনিক সরঞ্জাম পরিচালনায় ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। জ্বালানির নতুন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন বাজারজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট দে হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ডিজেলর এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন বাজারে পরিবাহিত প্রতিটি পণ্য, প্যাকেজ ও খাদ্যসামগ্রীর পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। এর ফলে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দেশটিতে ডিজেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
বাজার সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামই ডিজেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। ইউএস-ইরান সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৭.৬৩ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডাব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২.৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।
আমেরিকান জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুদ বিগত পাঁচ বছরের গড় হারের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ কম রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বিঘ্নিত হওয়া, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা জ্বালানি রপ্তানির ওপর কড়াকড়ি বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের এই আকাশচুম্বী দাম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জ্বালানি খরচ কমাতে মার্কিন প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এমআর/টিএ