ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় বিষ খাইয়ে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪২ পিএম | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম (৩৭) নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিন (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি মো. স্বপন পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাজিমকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বগুড়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা। নাজিম ও মামলার অপর আসামি স্বপন একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন।কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই টাকা থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন তিনি।
পরে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে পাওনা টাকা পরিশোধ না করতেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার আগে তিনি ইন্টারনেটে মানুষকে অচেতন করার ওষুধের নামও খুঁজে দেখেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট ওয়াহেদকে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার একটি এনজিও কার্যালয়ে ডেকে নেন নাজিম ও স্বপন। সেখানে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
পরে ওই রাতেই ওয়াহেদের লাশ বস্তায় ভরে মালগ্রাম এলাকার একটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে কর্মস্থল থেকে চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান নাজিম ও স্বপন।
ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা লাশটি ওয়াহেদের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ওয়াহেদের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে নাজিম ও স্বপনের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার নাজিমকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার পলাতক আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এমআর/টিএ