© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মন্ত্রিসভায় বড় পুনর্বণ্টন আসন্ন: স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় কাটছাঁট!

শেয়ার করুন:
মন্ত্রিসভায় বড় পুনর্বণ্টন আসন্ন: স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় কাটছাঁট!

ছবি: সংগৃহীত

গোলাম ইউসুফ, স্পেশাল করসপন্ডেন্ট
০১:৩৫ পিএম | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চলতি মাসেই বর্তমান মন্ত্রিসভার কলেবর সম্প্রসারণ ও বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তোপের মুখে থাকা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের জোরালো প্রস্তুতি চলছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, একের পর এক বেফাঁস মন্তব্য ও সিন্ডিকেট বিতর্কে থাকা বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বর্তমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে। তাঁর পরিমিত বাকশৈলী ও পেশাগত দক্ষতার কারণে তাঁকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতির বিষয়টি এখন সরকারের সর্বোচ্চ মহলে জোর আলোচনায়। টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে যোগ করা হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ সূত্র আভাস দিয়েছে।

সরকার গঠনের ছয় মাস পূর্তিতে সম্প্রতি প্রাথমিক একটি রদবদল হলেও তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। পরিবহন চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ আখ্যা দেওয়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কিংবা তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে ‘সময় গোনা ছাড়া কিছু করার নেই’ বলা বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বহাল থাকায় জনমনে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা এবং বিমানমন্ত্রী আফরোজা রিতাকে খাদ্যে বদলি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক দেখা দেয়। এই খণ্ডিত পরিবর্তনের পর এবার সরাসরি কাজের মূল্যায়ন ও ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে বড় ধাক্কা আসছে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব বদল ও মুহিতের পদোন্নতি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করার জোরালো আভাস পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সুষম আচরণের কারণে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে চাইছে সরকার। বিপরীতে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড খোদ প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বিব্রত করেছে।

রাজশাহী মেডিকেলে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পরিচালকের ফাঁসি দাবি করা, চিকিৎসকদের আচরণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং জনসমক্ষে হাসপাতালের তরকারি পরখ করার মতো কাণ্ড ঘটিয়ে তিনি চিকিৎসকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন। এমনকি বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দক্ষতা না থাকায় তার কার্যক্রম স্বাস্থ্য খাতে অসস্তি তৈরি করেছে। খোঁজ সরকারি চিকিৎসকরা তার অদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে তাঁর মূল বিষয়ের বাইরে অতিরিক্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তাকে সরাসরি থামিয়ে দেন। নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় ‘আদ-দ্বীন’ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ও পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়। সম্প্রতি বিগত সরকারের বিতর্কিত ঠিকাদার ‘মিঠু’ সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিডনি হাসপাতালের ডায়ালাইসিস মেশিন কেনা এবং ইডিসিএলের এমডিকে ডেকে মন্ত্রীর ভাইয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট চক্রের সঙ্গে কাজ করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় হয়েছে।

সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় দ্বিতীয় প্রধান কেন্দ্রবিন্দু শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সঙ্গে রুক্ষ ব্যবহার, সরাসরি ফোনে না পাওয়া এবং দুর্যোগকালে পরীক্ষা নেওয়ার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিন কিংবা শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নাম বিবেচনায় রয়েছে।

সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ি রাজধানীর সার্কিট হাউস সড়কে উল্টোপথে চলায় ট্রাফিক পুলিশ মামলা করেছে। এ ঘটনায় খোদ প্রধানমন্ত্রী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং রাজপথের ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার আকার ৫১ থেকে আরও বাড়ানো হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো বড় মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হতে পারে।

সম্ভাব্য তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করা মুশফিকুল ফজল আনসারী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জয়নুল আবদিন ফারুক, শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আমান উল্লাহ আমান এবং অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এ বি এম আশরাফ উদ্দীন নিজান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মজিবুর রহমান ও মাহমুদা হাবিবার নামও শোনা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্থায়ী কমিটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, সরকারপ্রধান প্রতিটি দপ্তরের ফাইল ও কাজের মূল্যায়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। খণ্ডিত প্রথম রদবদলের ক্ষোভ দূর করতে খুব দ্রুতই এই বড় ধরনের পুনর্বণ্টনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এসএন 

মন্তব্য করুন