কলকাতা উৎসবে পুরস্কার পেল দেশের দুই সিনেমা
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৫ পিএম | ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে ফের সাফল্যের দেখা পেলেন বাংলাদেশের নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। কলকাতায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে পিপলু আর খানের পরিচালনায় নির্মিত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘জয়া আর শারমিন’। এছাড়া এবারের উৎসবে বাংলাদেশের আরেকটি চলচ্চিত্রও সম্মাননা পেয়েছে। মকবুল চৌধুরী পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ পেয়েছে বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি ‘জুরি মেনশন’।
‘জয়া আর শারমিন’ সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া। উৎসবের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতিগুলোর একটি হিসেবে ‘বিমল রায় গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে চলচ্চিত্রটি।
ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়ার (এফএফএসআই) পূর্বাঞ্চল শাখার আয়োজনে কলকাতার নন্দন-৩ প্রেক্ষাগৃহে ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। ছয় দিনের এই আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেয় ১৯টি ছবি। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইরান, স্পেন, জার্মানি, কোস্টারিকা, পর্তুগাল, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও উজবেকিস্তানের চলচ্চিত্র ছিল।

রোববার রাতে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানেই ঘোষনা হয় সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘জয়া আর শারমিন’-এর নাম। ছবিটির এই অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জয়া আহসানের অভিনয়জীবনের ঝুলিতে যুক্ত হলো আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
মহামারির সময়কার লকডাউনকে পটভূমি করে নির্মিত ‘জয়া আর শারমিন’ একটি ৮৬ মিনিটের বাংলা ভাষার মনস্তাত্ত্বিক চলচ্চিত্র। ছবিতে জয়া আহসান অভিনয় করেছেন জয়া চরিত্রে। তাঁর সঙ্গে শারমিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মঞ্চের গুনী অভিনেত্রী মহসিনা আক্তার। একই ছাদের নিচে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা দুই নারীর সম্পর্কের পরিবর্তন, নিঃসঙ্গতা, পারস্পরিক মানসিক নির্ভরতা এবং শ্রেণি ও ক্ষমতার ব্যবধানকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে গল্প।
ছবিটির পরিচালক পিপলু আর খান। পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে জয়া বলেন, ‘ এই স্বীকৃতিকে আমার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি ‘জয়া আর শারমিন’ ছবির পুরো দলের জন্যও বিশেষ অর্জন। এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও আনন্দ ও গর্বের বিষয়। বিশেষ করে লকডাউনের মতো একটি সীমাবদ্ধ সময় ও দুই নারীর সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি কলকাতার দর্শক, সমালোচক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি, সেটিও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
গল্প রাজ্য ফিল্মসের আবু শাহেদ ইমন, সি-তে সিনেমার জয়া আহসান এবং অ্যাপলবক্স ফিল্মসের পিপলু আর খানের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। পুরস্কার পাওয়ার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন উৎসবের স্বীকৃতি এবং চলচ্চিত্র সমালোচক, নির্মাতা ও দর্শকদের উষ্ণ সাড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই অর্জন ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও উৎসাহের।
এবারের উৎসবে বাংলাদেশের আরেকটি চলচ্চিত্রও সম্মাননা পেয়েছে। মকবুল চৌধুরী পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ পেয়েছে বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি ‘জুরি মেনশন’। ফলে এবারের উৎসব বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যই হয়ে উঠেছে সাফল্যময়। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘বিমল রায় সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ভারতের অসমিয়া ভাষার চলচ্চিত্র ‘রিভার টেলস’।
‘জয়া আর শারমিন’-এর এই পুরস্কার জয়া আহসানের ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে নতুন একটি মাইলফলক। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে অভিনয়ের জন্য প্রশংসা ও পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রীর সাফল্যের তালিকায় এবার যুক্ত হলো কলকাতার পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি। একই সঙ্গে ছবিটির গল্প, নির্মাণ ও অভিনয় যে আন্তর্জাতিক দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মনোযোগ কেড়েছে, এই পুরস্কার তারই আরেকটি প্রমাণ। এমনটিই মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।
এসএ/এসএন