ইমরান খানের আটকাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি অস্ট্রেলিয়ার সাত অধিনায়কের
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫০ পিএম | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাতজন ক্রিকেট অধিনায়ক দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ংয়ের কাছে চিঠি দিয়ে পাকিস্তানে ইমরান খানের আটকাবস্থা নিয়ে মানবিক উদ্বেগ জানিয়েছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তারা 'কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে, যারা কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন'; এই অবস্থান থেকে চিঠিটি লিখেছেন।
চিঠিতে তারা পরিষ্কার করেছেন যে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তারা কোনো পক্ষ নিচ্ছেন না। তাদের মতে, সেটি পাকিস্তানের নিজস্ব বিষয়। তাদের উদ্বেগ হলো, আটক অবস্থায় যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হচ্ছে। তারা এটিকে 'রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, মৌলিক মানবিকতার বিষয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের খ্যাতিমান সাবেক খেলোয়াড়দের এটি সর্বশেষ আবেদন।
এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক গত ২৩ আগস্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে ইমরানের উন্নত চিকিৎসার দাবি জানানো হয়। তাদের দাবি ছিল, বর্তমানে তার চিকিৎসা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার মানদণ্ড পূরণ করছে না।
চিঠিতে তারা তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানান:
১. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে, যেখানে ইমরান খানের নিজস্ব চিকিৎসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা, তাদের দ্বারা তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন মূল্যায়ন করার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে খবর পাওয়া গেছে, তা পরীক্ষা করতে হবে।
২. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মেডিকেল মূল্যায়নের ফলাফল যাই হোক না কেন, সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে যে চিকিৎসার সুপারিশ করা হবে, তা যেন দ্রুত দেওয়া হয়।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক প্রথম চিঠিটি লিখেছিলেন। এরপর সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মঈন খানও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সর্বশেষ চিঠিতে বলা হয়েছে, ইমরানের দুই ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে তার স্বাস্থ্য ও আটক অবস্থায় তার সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সীমিত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ খুবই সীমিত থাকা।
গ্রেগ চ্যাপেল গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতেরও অনুরোধ করেছিলেন, যাতে তিনি পুরো দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তবে এখনো তিনি কোনো উত্তর পাননি।
এমআই/এসএন