জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দেবে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৯ এএম | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাদার মিডওয়াইফারি (ধাত্রীবিদ্যা) জোরদার করার প্রচারণাকে বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। একটি স্বাস্থ্যকর, অধিক সমতাভিত্তিক এবং জনমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বৃহত্তর রূপকল্পের কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যকে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে বাংলাদেশ ও সুইডেন যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টের আয়োজন করবে, যার শিরোনাম: “প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়ন: প্রতিরোধযোগ্য মা ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তকরণ” (From Commitment to Action: Integrating Midwifery into Primary Health Care to End Preventable Maternal and Newborn Deaths)। অনুষ্ঠানটি জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর অংশীদারিত্বে আয়োজিত হচ্ছে।
এই অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার (পিএইচসি) কেন্দ্রবিন্দুতে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফদের অবস্থান নিশ্চিত করা, তৃণমূল পর্যায়ে মা ও নবজাতকের মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়া, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবকে উৎসাহিত করা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার (UHC) অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন এবং একটি শক্তিশালী, সমতাভিত্তিক এবং প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন। পেশাদার মিডওয়াইফারি জোরদারে বাংলাদেশ-সুইডেনের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রতিফলন হিসেবে সুইডেন সরকারও উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবে।
এটি সরকারের “সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ” গড়ার বৃহত্তর রূপকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই রূপান্তরের মূল উপাদান হলো—চিকিৎসাকেন্দ্রীক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে ক্রমান্বয়ে প্রতিরোধ ও প্রাথমিক সেবা-কেন্দ্রীক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া। কমিউনিটি পর্যায়ের সেবাকে শক্তিশালী করা, সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের পেছনে বিনিয়োগ করা, সুস্থ গর্ভধারণ ও নিরাপদ প্রসবকে উৎসাহিত করা এবং মা ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ করা এই পদ্ধতির অপরিহার্য উপাদান।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পরিকল্পিতভাবে ২৫,০০০ পেশাদার মিডওয়াইফ পদ তৈরির একটি বড় নীতিগত প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কেবল মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবাই শক্তিশালী হবে না, বরং নারী ও তরুণদের পেশাগত সুযোগ প্রসারিত হবে এবং একটি শক্তিশালী সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী বাহিনী গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে এশিয়া, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরাসহ জাতিসংঘ সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, দাতব্য সংস্থা, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন। মেক্সিকো, নেপাল, সিয়েরা লিওন, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডের মন্ত্রীরা এই মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের একটি উপস্থাপনা এবং উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হবে কীভাবে দেশগুলো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে পেশাদার মিডওয়াইফারি ও সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের টেকসই বিনিয়োগে রূপান্তর করতে পারে। স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্যানেল আলোচনাটি পরিচালনা করবেন। এতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সরকারগুলো কীভাবে পেশাদার মিডওয়াইফদের অর্থায়ন, পদায়ন ও ধরে রাখতে পারে তা খতিয়ে দেখা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল তার নিজস্ব স্বাস্থ্য খাতের রূপান্তরকেই ত্বরান্বিত করতে চায় না, বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামো ও অর্থায়ন পুনর্বিবেচনার বৈশ্বিক আন্দোলনেও অবদান রাখতে চায়। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্পষ্ট বার্তা হবে: মানুষকে সুস্থ রাখতে, প্রতিরোধযোগ্য রোগ ও মৃত্যু প্রতিরোধ করতে এবং মানুষের আবাসস্থলের কাছাকাছি মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
এই অনুষ্ঠান থেকে মিডওয়াইফারিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, মানসম্পন্ন শিক্ষা, পেশাদার মিডওয়াইফদের নিয়োগ ও ধরে রাখা এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মিডওয়াইফদের নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধি।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সংলাপে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে মিডওয়াইফারিকে কেন্দ্রে রেখে বাংলাদেশ তুলে ধরতে চায় যে, মা ও নবজাতকের সুরক্ষা কেবল একটি বিশেষায়িত স্বাস্থ্য উদ্যোগ নয়—বরং এটি একটি সমতাভিত্তিক, স্থিতিস্থাপক এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার মূল ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক প্রবক্তা হতে চায়: স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চিকিৎসা থেকে প্রতিরোধের দিকে, হাসপাতাল-কেন্দ্রিক সেবা থেকে শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দিকে এবং সর্বোপরি সকলের জন্য উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবার দিকে এগিয়ে নেওয়া।
এই বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা দেশের অভ্যন্তরে “সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ” রূপকল্পকে সুনির্দিষ্ট সংস্কারে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়, পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর মা, সুস্থ শিশু এবং স্বাস্থ্যকর সমাজের জন্য চলমান বৈশ্বিক আন্দোলনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব প্রদানে ভূমিকা রাখে।
কেএন/টিএ