© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হাত-চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হয়: রাশেদ খাঁন

শেয়ার করুন:
হাত-চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হয়: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৫০ পিএম | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদের মাধ্যমে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, সেই সময় আমার হাত বেঁধে, চোখ বেঁধে, এমনকি মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে-যাতে করে আমি কথা বলতে না পারি-আমাকে প্রায় ৩০ মিনিট সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মধ্যে নির্যাতন করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের সময় নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল এ অভিযোগ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন রাশেদ খাঁন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১ জুলাই ইশতিয়াক আহমেদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তার কক্ষে রাশেদ খাঁনের ওপর নির্যাতন চালান।

পুলিশের এই কর্মকর্তাকে ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দাখিল করেছিলাম। পরবর্তীতে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটি জানার জন্যই আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনেছি।

অভিযোগের বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম, তিনি এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ। ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন চলছিল, সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আমি গ্রেপ্তার হয়েছিলাম। সেই সময় ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি কটূক্তির মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আমার নামে যে মামলা হয়েছিল, সেটি আমি জানতাম না।

তিনি বলেন, ১ জুলাই আমাকে ভাষানটেক থেকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আমাকে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ...

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, এই এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের মাধ্যমে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। সেই সময় আমার হাত বেঁধে, চোখ বেঁধে, এমনকি মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে—যাতে করে আমি কথা বলতে না পারি-আমাকে প্রায় ৩০ মিনিট সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মধ্যে নির্যাতন করা হয়।

তিনি বলেন, আমি যার মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, আমি এই ঘটনার ন্যায়বিচারের জন্যই মূলত আজকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছি। আমাদের চিফ প্রসিকিউটর আমাকে অবহিত করেছেন যে, এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, অন্যান্য যারা ভুক্তভোগী রয়েছেন, তাদের মতো আমিও এই ঘটনার ন্যায়বিচার পাব, ইনশাআল্লাহ।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আমাকে ১৫ দিন রিমান্ডে রেখে যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল, সেই নির্যাতন এবং পরবর্তীতে জেলে আমাদের যে কষ্ট দেওয়া হয়েছে—এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছাড়া এই কাজ করতে পারেন না।

তিনি অভিযোগ করেন, সরাসরি শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তিনি ডিএমপির মধ্যে, পুলিশের এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টর্চার সেল গঠন করেছিলেন। তার নিজের অফিসকেই তিনি টর্চার সেল বানিয়েছিলেন।

এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের পরিচয় প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, এই এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ কার সন্তান? আপনারা জানেন, বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার-একজন বিতর্কিত বিচারপতি, যিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির কথিত মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা পরিচালনা করেছিলেন এবং অনেক বিতর্কিত কথাবার্তা বলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থাৎ সরাসরি শেখ হাসিনার খুব নিকটস্থ ব্যক্তি ছিলেন এই বিতর্কিত বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার, যাকে শেখ হাসিনা এই ট্রাইব্যুনালেরই বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার ছেলে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আমরা যারা নেতৃত্ব দিয়েছি এবং ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা যারা নেতৃত্ব দিয়েছি, আমাদের সেই সব যোদ্ধাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছে।

পরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা ইনভেস্টিগেশন করেছি। আজকেও তিনি (রাশেদ খাঁন) সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন, মামলার খোঁজখবর নিতে এসেছিলেন। আমরা তাকে বিস্তারিত অবহিত করেছি। আমরা তাকে আশ্বস্ত করেছি যে, আমাদের এখানে তদন্ত সাপেক্ষে যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন