গুম বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ ফেরানোর দাবি আখতারের
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৭ পিএম | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশে চিরতরে গুম বন্ধের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘কোনো বাহিনী গুম করতে পারবে না, খুন করতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকবে, বাংলাদেশে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ যে সংসদ গঠন করবে, সেখান থেকে নতুন একটা রাষ্ট্রকাঠামোর দিশা পাবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিনই গণভোটের গণরায় অস্বীকার করেছে।
আখতার বলেন, ‘সংস্কারের জন্য, মানবাধিকারের পক্ষে, গুম-খুন বন্ধ করার পক্ষে যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল—সমস্ত অধ্যাদেশকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তারা ল্যাপস করে দেয়, সেগুলোকে বাতিল ঘোষণা করে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুম বন্ধ ও মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার তখন আরও শক্তিশালী আইন করার কথা বলেছিল। জনগণ আশা করেছিল, এসব আইনের মাধ্যমে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং নাগরিকের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
সংসদে আনা আইনগুলো নিয়ে সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, ‘সরকার সংসদে এমন আইন নিয়ে এসেছে—তারা শক্তিশালী আইন নিয়ে আসার কথা বলে অপরাধকে শক্তিশালী করেছে আর বিচারকে করেছে দুর্বল।’
গুমের অভিযোগের তদন্তে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি গুমের পরে স্বাধীন তদন্ত না হয়, যদি মানবাধিকার কমিশন সরকারের ইচ্ছামতো গঠিত হয়, মানবাধিকার কমিশন যদি সঠিকভাবে, স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে না পারে—সেক্ষেত্রে কেমন করে আমরা বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলোকে সুরক্ষিত করতে পারবো?’
বিরোধীদলে থাকার সময় জাতিসংঘের অধীনে গুমের তদন্তের দাবি করা হলেও সরকারে এসে স্বাধীন সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব না দেওয়ার অভিযোগ করেন আখতার। তিনি বলেন, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ, তাদেরই যদি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীই শাস্তির মুখে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ হারাবে।
এমআর/টিএ