জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ: নতুন বাংলাদেশের রোডম্যাপ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
১০:২৬ এএম | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতিসংঘে উঠছে নতুন বাংলাদেশ। তুলে ধরা হবে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের যাত্রা। বিশ্বমঞ্চে কথা হবে জলবায়ু সংকট নিয়ে। দাবি উঠবে বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের।
চার দশক পর জাতিসংঘে দেশের নেতৃত্ব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন। সেখানে প্রথমবার ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ সময় ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে অংশ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজে।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে প্রাধান্য পাবে:
* ২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা
* রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান
* বৈশ্বিক উষ্ণতায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ
* অনুদানভিত্তিক ক্লাইমেট ফিন্যান্সের জোরালো দাবি
স্বাস্থ্য খাতেও বড় বার্তা দেবে বাংলাদেশ। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-র সাথে যৌথ অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক বাংলাদেশ। মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে গুরুত্ব দেওয়া হবে মিডওয়াইফারি সেবায়। সেখানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তুলে ধরবেন সরকারের ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ উদ্যোগ। দেশের জন্য ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টির অঙ্গীকারও থাকছে আলোচনায়। হাসপাতালের চিকিৎসার চেয়ে গুরুত্ব পাবে তৃণমূলের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হাসপাতালের চার দেয়ালে চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে রোগ ও মৃত্যু প্রতিরোধের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মডেল গড়ে তুলতে বিশ্বকে আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ।
এতে এশিয়া, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
বিশেষ মন্ত্রীপর্যায়ের সংলাপে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মেক্সিকো, নেপাল, সিয়েরা লিওন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের।
এছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, জনহিতৈষী প্রতিষ্ঠান (Philanthropic organisations), নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে। অনুদানভিত্তিক জলবায়ু তহবিল নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বেশ কিছু উদ্যোগ তুলে ধরা হবে অধিবেশনে:
* পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
* দেশজুড়ে খাল খনন প্রকল্প
* নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি
অধিবেশনের পাশাপাশি সাইডলাইন বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগ টানার জোর চেষ্টা থাকবে। নতুন সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতি ও সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরে বিশ্ব দরবার থেকে বড় বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।
সফর শেষে বাংলাদেশ সময় ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
কেএন/এসএন