বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩৩ এএম | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এ লং মার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমরা দলীয় দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামিনি। আমরা গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।’
এরপর তিনি বিএনপির দেশ পরিচালনা ও রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করেন। বলেন, ‘বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে।’
এ সময় আন্দোলন সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘কোনো দলীয় দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নামিনি, আমরা কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’
জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। জনগণের রায় ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন? ইনশাআল্লাহ দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব।’
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের জন্যই তারা এই কর্মসূচিতে নেমেছেন এবং জনগণের দাবিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ উপলক্ষে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।
ভোগড়া বাইপাসে ছিল লংমার্চের প্রথম পথসভা। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে নির্ধারিত পথসভা একপর্যায়ে বিশাল জনসভায় রূপ নেয়।
লংমার্চের নেতৃবৃন্দ সমাবেশস্থলে পৌঁছালে তাকবির ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে ভোগড়া বাইপাস। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা তাদের তাকবির ধ্বনিতে বরণ করে নেন। পরে মিছিল ও স্লোগানে সমাবেশস্থলের চারপাশের পরিবেশ মুখর হয়ে ওঠে।
সভায় এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা সন্ত্রাস চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না। আমরা সংস্কার চাই, করতে হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা অধিকার আদায়ের জন্য উত্তরজনপদে লংমার্চে যাচ্ছি। গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে লাখো জনতার উপস্থিতিতে উদ্বোধনী সমাবেশ করে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এ সময় তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গীতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ফুল ও স্লোগান দিয়ে বহরকে অভিবাদন জানায়। পরে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডের পথসভায় যোগ দেয় লং মার্চের বহর।
গাজীপুরের পথসভা শেষে লং মার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় যোগ দেবে। সবশেষ রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও লং মার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতস্থলে অনানুষ্ঠানিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনের ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেওয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লং মার্চের বহর।
আরআই/টিএ