© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাঁশ কাটতে গিয়ে অপ্রতিমের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা জিলানী

শেয়ার করুন:
বাঁশ কাটতে গিয়ে অপ্রতিমের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা জিলানী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১২ পিএম | ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন লালমাই পাহাড়ের পাশঘেঁষা সানন্দা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদের জিলানী কাজের জন্য বাঁশ কাটতে তার ভাতিজাসহ (১৫) বাঁশঝাড়ে যান। বেলা ১১টার দিকে বাঁশঝাড়ের কাছাকাছি যাওয়ার পর তার ভাতিজা প্রথমে অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চাচাকে বলেন। এ সময় চাচা আবদুল কাদের জিলানী ভয় পেয়ে ভাতিজাকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।

পরবর্তীতে দুপুর দেড়টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা করেন আবদুল কাদের জিলানী। এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশের একটি ঝোঁপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জিলানী বলেন, আমরা ফেসবুক বা ইউটিউব চালাই না। এতকিছু ঘটেছে সেটিও জানি না। পরে মামুন ভাইয়ের (একই গ্রামের বাসিন্দা) সঙ্গে আমার দেখা। মামুন ভাই আমাকে বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাডামের ছেলে হারিয়ে গেছে। পরে আমি মামুন ভাইকে বললাম, ওইখানে একটা বাচ্চা দেখে এসেছি পড়ে আছে। তাৎক্ষণিক মামুন ভাইকে নিয়ে আমি মরদেহ পড়ে থাকার স্থানটিতে যাই। পরে মামুন ভাই পুলিশকে ফোন দিয়ে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ধীরে ধীরে সব জানাজানি হয়।

এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ছেলেটি । আজ শনিবার মরদেহ উদ্ধারের পর প্রতিবাদে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অপ্রতিমের মরদেহে রক্তের দাগ লেগে আছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করলেও কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিছুই জানাতে পারেনি পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বসহ কাজ করছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। আপাতত মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি অপ্রতিম। পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এমআই/টিএ


মন্তব্য করুন