আটক তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার : পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৩ এএম | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে নিখোঁজ ছিল অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি সানন্দা এলাকায় তার ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় অপ্রিতমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যেতে চায়। কিন্তু আর ফিরে আসেনি। সম্ভবত আইফোনটিই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
শনিবার রাতে সানন্দা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোটবাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরে ‘ফ্লাইং বার্ড’, ‘কিংস অব কোটবাড়ি’, ‘গ্যাং র্যাপ’-সহ একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের প্রায় শতাধিক সদস্য রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে পর্যটক ও স্থানীয়দের বিভিন্ন টাকা-পয়সা, মোবাইল, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মালামাল ছিনতাই করে।
তুহিনের নিজের একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে। পাহাড়ের টিলার ওপরে তুহিনদের একটি খামার রয়েছে।
ওই খামারেই অপ্রতিমকে পেটানো হয়েছিল। এ ঘটনা অনেকেই দেখেছেন, কিন্তু তুহিনের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। তুহিন ও অভি দুইজনের দুটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ আছে। এলাকার কয়েকজন বড় নেতা তাদের শেল্টার দেয়। তুহিনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে গেলেও এলাকার নেতাদের চাপে পুলিশ মামলায় নেয়নি বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগের ও জিডির কপি যুক্ত করে একাধিক ব্যক্তি পোস্ট দিয়েছেন।
কুমিল্লা কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কুবি-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহত অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। এর আগে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তুহিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম নামের আরো দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল হাসান বলেন, অপ্রতিম হত্যা ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মামলা করতে কেউ আসেনি। তবে অপ্রতিমের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রবিবার তারা থানায় আসবেন মামলা করতে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মূলত আইফোন নাকি অন্যকোনো কারণ রয়েছে তা বিস্তারিত জানা যাবে।
একেএস/টিএ