ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধার মুখে সিএনএনের সাংবাদিকরা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৩ পিএম | ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার একদিন পর হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধার মুখে পড়েছেন সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, 'ফেক নিউজ' প্রকাশের অভিযোগে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে 'তাৎক্ষণিকভাবে' হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিএনএনের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি বেটসি ক্লেইন ও একজন ফটোসাংবাদিককে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রবেশে বাধা দেন।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তাদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। পরে ফটোসাংবাদিকের কাছ থেকে ব্যাজ নিয়ে নেওয়া হলেও এর প্লাস্টিক কভারটি ফেরত দেওয়া হয়।
একইভাবে, এমএস নাও-এর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি আকায়লা গার্ডনারকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বলেছেন, তার প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পলিটিকোর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি চেয়েন হাসলেটও প্রবেশে বাধার মুখে পড়েন এবং তার প্রেস ব্যাজ নিয়ে নেওয়া হয়।
শুক্রবারের পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে 'মিথ্যা' ও 'ভিত্তিহীন' খবর প্রকাশ করছে। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি বলেন, 'সৎ ও ন্যায্য সংবাদমাধ্যম' চান তিনি এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দিতে চান না।
তবে নিষেধাজ্ঞার আওতা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে শুরুতে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল। পরে শনিবার সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে এর বাস্তব প্রয়োগ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সিএনএন বলেছে, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, সরকারি বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার তাদের রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে সেটিকে এই সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করবে প্রতিষ্ঠানটি।
পলিটিকোও জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তবে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাকুই হাইনরিশও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের সমালোচনা করেছেন।
তার বক্তব্য, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিলের নজির তৈরি হলে ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এর আগে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সিএনএন-এর সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস ক্রেডেনশিয়াল বাতিল করা হয়েছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে সেই ক্রেডেনশিয়াল পুনর্বহাল করা হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকদেরও হোয়াইট হাউসের কিছু কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে; বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই এখনো চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিলের বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
আরআই/টিএ