শীতকালে আমাদেরকে প্রায়শই সর্দি, কাশি, হাঁচি, মাথা ব্যথা প্রভৃতি উপসর্গে ভুগতে হয়। কিন্তু সর্দি-জ্বর বা ফ্লুয়ের মতো ভাইরাল ইনফেকশনগুলো শীতকালেই কেন বেশি হয়?
যদিও সাধারণ সর্দি ও ফ্লু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনিতেই সেরে যায়। তবুও প্রতিবছর ফ্লু আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ২.৯ লক্ষ থেকে ৬.৫০ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করে।
সাধারণ সর্দি-জ্বর বনাম ফ্লু
আমাদের সাধারণ সর্দি এবং ফ্লু মধ্যে পার্থক্য জেনে রাখা উচিত।
বেশিরভাগ সময় সাধারণ সর্দির লক্ষণ হিসেবে গলা ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাশি ও হাঁচি দেখা দেয়। প্রায় ২০০টিরও বেশি ভাইরাস রয়েছে যার সংক্রমণে সাধারণ সর্দি হতে পারে। তবে সাধারণত করোনাভাইরাস এবং রাইনোভাইরাসের কারণে সাধারণ সর্দি-জ্বর দেখা দেয়।
চারটি করোনাভাইরাস রয়েছে যার সংক্রমণে সর্দি হয়। এগুলো কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী সার্স-কোভ-২ ভাইরাস পরিবারেরই সদস্য। তবে এগুলো কোভিড-১৯ এর মতো মারাত্মক নয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেবলমাত্র হালকা অসুস্থতা দেখা যায়।
মজার বিষয় হল, যাদের সাধারণ সর্দি ভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে তাদের প্রায় এক চতুর্থাংশ লোক কোন লক্ষণই অনুভব করেন না।
অন্যদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে ফ্লু বিকাশ লাভ করে। এর মধ্যে তিনটি ভিন্ন ধরণের ভাইরাস রয়েছে- ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা বি এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা সি।
সাধারণ সর্দি এবং ফ্লুতে অনেকগুলো লক্ষণ দেখা যায়, যা প্রায় একইরকম। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের ফলে উচ্চ তাপমাত্রা, শরীরের ব্যথা এবং শীতল ঘাম দেখা দেয়। এই উপসর্গগুলো দ্বারা খুব সহজেই সাধারণ সর্দিজ্বর ও ইনফ্লুয়েঞ্জার পার্থক্য করা যায়।
সিজনাল প্যাটার্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা বছরের যে কোন সময় সংঘটিত হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তুলনামূলকভাবে অনুমানযোগ্য একটি সিজনাল প্যাটার্ন অনুসরণ করে।
সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণের প্রথম লক্ষণগুলো অক্টোবরের কাছাকাছি শুরু হয় এবং শীত বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়ে যায়। কখনো কখনো ফ্লু’র প্রকোপ মে মাস অবধি স্থায়ী হতে পারে।
শীতল বায়ু আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে
সাধারণ সর্দি এবং ফ্লু ভাইরাস আমাদের নাক দিয়ে আমাদের দেহে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। তবে এই মাইক্রোবায়াল অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অনুনাসিক আস্তরণে একটি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
আমাদের নাক ক্রমাগত শ্লেষ্মা নিঃসরণ ঘটায়। ভাইরাসগুলো এই আঠালো পদার্থে আটকে যায়, যা আমাদের অনুনাসিক প্যাসেজগুলোতে সিলিয়া নামক ক্ষুদ্র কেশ দ্বারা ক্রমাগত পরিষ্কার হতে থাকে।
ঠাণ্ডা বাতাস অনুনাসিক প্যাসেজটি শীতল করার মধ্য দিয়ে শ্লেষ্মা নিঃসরণ ধীর করে দেয়। ফলে ভাইরাস কণাগুলো অপেক্ষাকৃত সহজেই দেহে প্রবেশের সুযোগ পায়। তখন আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই অনুপ্রবেশকারী ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়।
এসব ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় কী?
ঘন ঘন সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধোয়া,
চোখ, নাক, বা মুখ স্পর্শ না করা,
অসুস্থ লোকদের থেকে দূরে থাকা,
সর্দি হলে বাড়িতে থাকা এবং অন্যের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা।
একই নিয়ম ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে প্রতিবছর ‘ফ্লু শট’ বা ফ্লুয়ের টিকা গ্রহণ করা ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।
তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে
টাইমস/এনজে