তালেবানকে নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান পাকিস্তানের
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩১ পিএম | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আফগানিস্তানে বিদ্যমান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে তালেবানকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) আফগানিস্তান বিষয়ক কন্টাক্ট গ্রুপের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান। ইসহাক দার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আফগানিস্তানের মাটি যাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতে না পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আফগানিস্তানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর কোহাটে একটি পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতর মসজিদের কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র সংঘর্ষের ওই ঘটনায় ১৬ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। এই হামলাকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দার বলেন, এমন ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানার বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া কতটা প্রয়োজন।
কোবাটের ওই হামলার পরপরই গত সোমবার আফগানিস্তানের কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। দেশটির দাবি, এসব হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ২৮ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় সাধারণ মানুষ লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন (ইউনামা) জানিয়েছে, কুনারে চালানো ওই বিমান হামলায় একজন পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুসহ অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগানিস্তানের প্রতি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তালেবানের উচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সব ধরনের সমর্থন বন্ধ করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এ ছাড়া নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড ইসলামী নীতি এবং মুসলিম সমাজের রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল
এমআই/এসএন