ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা মায়ের নাম লেখা জার্সি গায়ে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেললেন মিলার
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৬ এএম | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের সম্মান জানাতে আয়োজিত ‘পিঙ্ক ডে’ ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা মায়ের নাম লেখা গোলাপি জার্সি গায়ে মাঠে নেমে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে উপলক্ষটা স্মরণীয় করে রাখলেন ডেভিড মিলার।
‘পিঙ্ক ডে’র ম্যাচ প্রোটিয়া ব্যাটারদের জন্য পয়মন্ত। অতীতে কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা কিংবা এবি ডি ভিলিয়ার্সরা এই দিনে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। কিন্তু ডেভিড মিলারের ক্ষেত্রে দিনটা আরও বেশিই স্পেশাল হয়ে থাকল। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ওয়ান্ডারার্সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রোটিয়ারা নেমেছিল গোলাপি জার্সি গায়ে। ম্যাচটিতে মিলার খেলেছেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসটি। তাতে ‘পিঙ্ক ডে’ ওয়ানডে ম্যাচে ৩২ রানের জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে প্রোটিয়ারা।
মিলার এদিন মাত্র ৯৩ বলে ১২টি চার ও ৯টি ছক্কার সাহায্যে ১৪২ রান করেন। তার দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান সংগ্রহ করে। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন তেম্বা বাভুমা, যিনি করেন ১০৩ রান। তবে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া মিলারের জন্য মুহূর্তটি ছিল বিশেষভাবে আবেগঘন।
‘পিঙ্ক ডে’ আয়োজনটি স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের সম্মান জানাতে উৎসর্গ করা হয়েছিল। আর মিলারের মা জেনিও এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ী গল্পের অংশ। স্তন ক্যান্সারকে পরাস্ত করা জেনির নাম লেখা ছিল মিলারের জার্সির পেছনে, আর মায়ের নাম লেখা জার্সি গায়ে চাপিয়েই ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটি খেলেন এই বাঁহাতি।
৩৭ বছর বয়সী মিলারই প্রোটিয়াদের দলে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের গুরুত্বও যেন তার কাছে আরও বেড়েছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিলার বলেন, ‘এ বছর বিষয়টি সত্যিই দারুণ ছিল, কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের নাম জার্সিতে যুক্ত করা হয়েছিল। সব নারীর জন্য এটি ছিল বিশেষ একটি দিন। বছরের পর বছর ধরে এটি অসাধারণ একটি উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জন্য খুব আবেগঘন ছিল। আমার মনে হয় না, গত ২৪ ঘণ্টায় মা কান্না থামিয়েছেন! মা-বাবা দুজনকে এখানে আমার পাশে সমর্থন করতে দেখে দিনটি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া এবং ভালো খেলাটা সবকিছুকে আরও বিশেষ করে দিয়েছে; বিশেষ করে মায়ের জন্য।’
মায়ের শারীরিক অসুস্থতার দীর্ঘ যাত্রা তার মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। তাই ওয়ান্ডারার্সের এই ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিশেষ ইনিংসগুলোর একটি হতে পারে, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন মিলার।
মিলার বলেন, ‘গত কয়েক বছর কঠিন ছিল। এমন একটি দিনে তারা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্য দিয়ে গেছে, সেগুলো উদযাপন করতে পারাটা তাদের জন্য সত্যিই বিশেষ। মা আমাকে আগে বলেছিলেন, “আজ আমার কাছে পর্যাপ্ত মেকআপ নেই, কারণ এটা বারবার চোখের পানিতে মুছে যাচ্ছে!” তারা খুব খুশি এবং গর্বিত। প্রথম দিন থেকেই তারা আমার পাশে আছে। তাই এটি অবশ্যই আমার জন্য খুব বিশেষ।’
প্রোটিয়াদের মিডল অর্ডারের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মিলার আগামী বছর নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের দলে জায়গা ধরে রাখার জন্য এখনো লড়াই করছেন। জায়গার জন্য তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ট্রিস্টান স্টাবস, ম্যাথিউ ব্রিটজকি ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের মতো তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও এখন আর নেই মিলার। বরং ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে বিশ্বের বিভিন্ন লাভজনক টি-টোয়েন্টি লিগে খেলে সময়টা উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ কারণেই তার সর্বশেষ সেঞ্চুরিটির সময়টাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরআই/টিএ