আজ বিশ্ব হার্ট দিবস
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৪ এএম | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব হার্ট দিবস। প্রতি বছর এই দিনে হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব হার্ট দিবসে হৃদরোগের এমন কিছু লক্ষণ ও ঝুঁকির দিক তুলে ধরা হচ্ছে, যেগুলো অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়।
এ বছরের প্রচারের মূল বার্তা ‘একটি হৃদস্পন্দনও উপেক্ষা করবেন না’। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে চলা এ প্রচারে হৃদরোগের লক্ষণ দ্রুত চেনা, হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া এবং হৃদ্রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগের অনেক লক্ষণ সবসময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। আবার উচ্চ রক্তচাপের মতো কিছু ঝুঁকিও দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই শুধু অসুস্থ বোধ করার পর নয়, আগেভাগেই নিজের হৃদ্স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ হৃদ্রোগ ও রক্তনালির রোগে মারা যান, যা ওই বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এসব মৃত্যুর ৮৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া ও স্ট্রোক।
কীভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেবেন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা
বেশি করে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর আমিষ খাওয়া
অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো
ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, তামাক ব্যবহার ও অতিরিক্ত মদ্যপানসহ বিভিন্ন আচরণগত ঝুঁকি হৃদ্রোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
প্রতিদিন একটু বেশি নড়াচড়া
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের এবারের কর্মসূচিতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরজুড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা বা অন্য কোনো শারীরিক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলে হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন
তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা ব্যথা হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
কারণ হৃদরোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আবার সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ একই রকম নাও হতে পারে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন বলছে, হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগ বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও এর অনেক ঝুঁকি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই এবারের বিশ্ব হার্ট দিবসে মানুষের প্রতি নিজের হৃদস্বাস্থ্যের লক্ষণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব হার্ট দিবসের বার্তা শুধু এক দিনের জন্য নয়—প্রতিদিনের খাবার, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, তামাক থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এসব অভ্যাসের মাধ্যমেই হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া সম্ভব।
এফআর/এসএন