© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘আব্বা’ ডেকেও রেহাই পেলেন না ছাত্রদল নেতা

শেয়ার করুন:
‘আব্বা’ ডেকেও রেহাই পেলেন না ছাত্রদল নেতা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:০০ পিএম | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন এই ছাত্রদল নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম, মহিপুর ইউনিয়নছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসানসহ আরও অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারুক বলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় মাসুদ রানা, আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিনি।

ফারুক বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। তাকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর ও নির্যাতন করেন। রাত ১টা পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ফারুক। তাকে তুলে নেওয়ার পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ-এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।

পরে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় বলে জানান ফারুক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

ফারুক বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ হতে পারে না। ডিবি পরিচয় দিয়ে কাউকে তুলে নেওয়া এবং নির্যাতন করা গুরুতর অপরাধ। আমরা এমন বর্বরতার অবসান চাই।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযুক্ত মাসুদ রানা, রাশেদ ও আমিরুল ইসলাম ফাহিমসহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা।

ফাহিম জানান, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন