বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৬ পিএম | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে, তবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়েনি, বরং উল্টো কমছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৬ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে আসে।
ফলে গতকালই সোনার দাম সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম আরও কমেছে।আজ বেলা তিনটার দিকে স্বর্ণের দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৪০ ডলার। খবর আল–জাজিরা ও গোল্ড প্রাইস ডট অর্গ।
সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের আগাম সরবরাহের চুক্তির (ফিউচার) দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৭৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের তেজিভাব ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এতে স্বর্ণের দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।
আজ বেলা তিনটার দিকে স্বর্ণের যে দাম ছিল, তা ৫ আগস্টের পর স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। স্বর্ণের সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কেননা, বিনিয়োগকারীরা সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়, তখন এ ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহ বোধ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরিফ ওথমান আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব তেমন না-ও পড়তে পারে। তবে যেসব বিনিয়োগকারী স্বর্ণের বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় ক্ষতিবৃদ্ধি হতে পারে।’
শরিফ ওথমান আরও বলেন, ‘সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, এতে স্বর্ণের মূল্য কমে যায়।’
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নীতি সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক মাসে আরও অন্তত এক দফা সুদহার বাড়ানোর আশঙ্কা আছে, এমন কথা জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে।
এসব কারণে কয়েকজন নীতিনির্ধারক সতর্ক করেছেন, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। ফলে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তাদের মধ্যে ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাকও সর্বশেষ এই মত দিয়েছেন।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফের মতে, ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ও মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি-স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটা আদর্শ বাস্তবতা।
এদিকে আজ রুপার দাম ১ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৬০ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া অন্যান্য ধাতু যেমন, প্লাটিনাম, প্যালাডিয়াম ইত্যাদি ধাতুর দামও কমতির দিকে।
এমআর/টিএ