ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে নিহত মোস্ট ওয়ান্টেড লস্কর কমান্ডার হাশিম মুসা
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫২ পিএম | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জম্মু-কাশ্মির বুডগামে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মোস্ট ওয়ান্টেড লস্কর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা ওরফে আসিফ ফৌজি নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরওয়েথ কালান এলাকায় অভিযানে তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি সূত্র।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৫ চায়না কর্পস এ অভিযান পরিচালনা করে। বুডগামে মুসার অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। পরে গুরওয়েথ কালান এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ছিলেন মুসা। জম্মু-কাশ্মিরে সক্রিয় উচ্চমূল্যের বিদেশি জঙ্গি হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হতো।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, লস্কর কমান্ডার সাজিদ জাটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মুসার। পেহেলগাম হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ লস্কর হ্যান্ডলার হিসেবে সাজিদ জাটকে চিহ্নিত করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
কে ছিলেন হাশিম মুসা?
হাশিম মুসা আসিফ ফৌজি ও সুলাইমান নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের নাগরিক এবং লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিনি ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি) সাবেক কমান্ডো ছিলেন বলেও গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
ভারতে অনুপ্রবেশের পর জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেশ কয়েকটি হামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট ছিলেন।
মুসার বিরুদ্ধে যেসব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কয়েকটি হামলায় মুসার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
৪ আগস্ট ২০২৩, হালান, কুলগাম: হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হন।
২১ ডিসেম্বর ২০২৩, ডিকেজি অ্যামবুশ: এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর চার সদস্য নিহত হন।
৪ মে ২০২৪, শাস্তর, পুঞ্চ: ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বহরে হামলায় একজন সদস্য নিহত হন।
২৪ অক্টোবর ২০২৪, বোটাপাথরি, গুলমার্গ: হামলায় সেনাবাহিনীর দুই সদস্য ও দুই বেসামরিক বাহক নিহত হন।
তবে পেহেলগাম হামলা চালানো দলের সদস্য ছিলেন না মুসা। কিন্তু সাজিদ জাটের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কারণে জম্মু-কাশ্মিরে সক্রিয় লস্করের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও তা ভেঙে দিতে কাজ করা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তিনি গুরুত্বপূর্ণ টার্গেটে পরিণত হন।
সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুডগামে তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার আগে ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে খুঁজছিল ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
নির্দিষ্ট ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তা দ্রুত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৫ চায়না কর্পসকে জানানো হয়। এরপর কোনো বিলম্ব না করে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরওয়েথ কালান এলাকায় অভিযান শেষ হয় এবং মুসা নিহত হন।
অভিযানস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি একে ম্যাগাজিন, একটি লোরা/আল্ট্রা ডিভাইস হ্যান্ডসেট, একটি লোরা/আল্ট্রা মোবাইল ডিভাইস এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
(সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস)
এমআই/টিএ