© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৫ বছরে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত হবে: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
৫ বছরে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কাওছার আহমেদ, মোবাইল জার্নালিস্ট, ফেনী
০৬:১১ পিএম | ০১ অক্টোবর, ২০২৬
দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে উপজেলা পর্যায়েই মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য যেন মানুষকে জেলা সদর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধায় সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। নারীরা স্বাবলম্বী হলে এর সুফল পুরো পরিবারে পৌঁছাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান সরকারপ্রধান। এ ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।

ফুলগাজী ও পরশুরামের দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুহুরী-কহুয়া নদী ও খালকে সংযুক্ত করে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন এবং মানুষের পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে নদী-খাল খননের প্রয়োজন রয়েছে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া নদী-খাল খননের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ বাড়বে এবং বছরে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাশয় পুনঃখননসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাবেশে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল দেশে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ভিন্নমতের কারণে আইনের প্রয়োগে কোনো ভিন্নতা থাকবে না।

স্বাস্থ্যসেবা, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, নদী-খাল খননসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের উপকার করা।

মানুষের জন্য রাজনীতি এবং দেশের কল্যাণে কাজ করাই বিএনপির লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


এমআই/এসএন  

মন্তব্য করুন