© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত অন্তত ১৪

শেয়ার করুন:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত অন্তত ১৪

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১২ এএম | ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ, বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান হলের ফটকের সামনে আসেন। তাদের উদ্দেশ্য হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধর করা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের সঙ্গে বস্তাভর্তি দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো আড়াল করে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে হলের ফটকের সামনে অস্ত্র হাতে নেতাকর্মীদের অবস্থান দেখে কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির ওপর লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধির ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে ফটক বন্ধ করে দেন।

এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। আহত সহকর্মীদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অন্য সাংবাদিকদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

হামলায় ছাত্রদলের যেসব নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথি। এ ছাড়া সংগঠনটির আরও কয়েকজন নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ, আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

একেএস/টিএ

মন্তব্য করুন