শিক্ষা প্রকৃত না হলে শিক্ষিত লোকেরা চোর-ডাকাত হয়: মুজিবুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩১ পিএম | ০৫ অক্টোবর, ২০২৬
শিক্ষা প্রকৃত না হলে শিক্ষিত লোকেরা চোর-ডাকাত হয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আজকে যারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের নামে জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচার করছে, দুর্নীতি ও অনিয়ম করছে এরা সবাই শিক্ষিত চোর-ডাকাত। এরা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন নয় বরং সার্টিফিকেট অর্জন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘সার্টিফিকেট অর্জনের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে রাসূল (সা.) ইসলামী শিক্ষানীতির আলোকে এ দেশে শিক্ষানীতি তৈরি করতে হবে। প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আলোকিত মানুষ তৈরি সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দিবস পালন করে মানুষের কোনো কল্যাণ সাধন হয়েছে ইতিহাস তা বলে না। দিবস পালনে আমরা যেই আলোচনা করে সেগুলো পত্রিকা পাতায় থেকে যায়। বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে দেশ, জাতি ও জনগণ কেউ উপকৃত হচ্ছে বলে আমি মনে করি না।’
জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, আজকের এই আলোচনা হতে হবে শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার শেষ আলোচনা। আগামী বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হতে হবে মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সাথে। তাই শিক্ষক সমাজের সব যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি বলেন, একজন চিকিৎসক একজন রোগীকে সুস্থ করে তোলেন, একজন প্রকৌশলী একটি অবকাঠামো গড়ে তোলেন কিন্তু একজন শিক্ষক পুরো একটি জাতিকে গড়ে তোলেন। অথচ শিক্ষক সমাজ বরাবরই অবহেলিত ও বঞ্চিত।
আমরা শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারিনি এই বক্তব্য আর কতদিন দিতে হবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমার প্রত্যাশা এই বক্তব্য আজকেই শেষ হোক। আগামী বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমরা যাতে বুক ফুলিয়ে বলতে পারি আমরা আমাদের শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পেরেছি।
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম বলেন, শিক্ষকেরা সবচেয়ে সম্মানিত পেশা নিয়োজিত থাকলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশে গুটিকয়েক শিক্ষক ছাড়া ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ শিক্ষক সমাজকেই বুঝায়। শিক্ষক জাতির বিবেক কিন্তু এই শিক্ষকেরা সচ্ছলভাবে চলতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের আমলে শিক্ষকেরা যৌক্তিক দাবিতে অনেক আন্দোলন করলেও তাদের কোনো দাবি স্বৈরাচার সরকার পূরণ করেনি। বরং শিক্ষকদের রক্ত রাজপথে লেগে আছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিদায় হওয়ার পর নতুন বাংলাদেশে আজও শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি গুলো পূরণ হয়নি।’
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল মান্নান, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারি ড. মাওলানা আব্দুস সবুর মাতব্বর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর নবী মানিক শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে; এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি অবিলম্বে জাতীয়করণ করতে হবে; শিক্ষকদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ৩৫ বছর করায়, অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ বছর করতে হবে; এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ বাড়িভাড়া, উৎসবভাতা ও চিকিৎসাভাতা চলতি অর্থবছরে সরকারি নিয়মে প্রদান করতে হবে; অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে; এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যোগ্য ও মেধাবীদের আনুপাতিক হারে শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারি বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ দিতে হবে; এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মচারীদের বদলির সুযোগ দিতে হবে এবং কার্যকর করার জন্য সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; বিদায়ী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে মিথ্যা মামলার কারণে যেসকল শিক্ষক-কর্মচারীকে বরখাস্ত করে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাদের প্রাপ্য বকেয়া পরিশোধ করতে হবে; ৯ম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের সাথে একই সময়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাস্তবায়ন করতে হবে; শিক্ষক নিয়োগ ও ৪৯তম বিসিএস নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।
আরআই/টিএ