শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১৯ এএম | ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার কখনো কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণ ও তাদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক। কাজেই আপনাদের দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।
’ তবে জাতীয়করণের ফলে শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীতে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বদলি ও প্রশাসনিক দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় যুক্ত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই এ দাবির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও শিক্ষকদের বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ইতিহাস তুলে ধরে আবদুল মঈন খান বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল বেসরকারি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি ও সমাজের দানশীল মানুষের সহযোগিতায় পরিচালিত হতো।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি সহায়তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।
তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারিভাবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কমিশন গঠন করে। সেই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষকদের সরকারি বেতন-সহায়তা আরো বাড়ানো হয়।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে ২০০১ সালে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের শতভাগ সরকারিভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
ফলে বর্তমানে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সরকারি সহায়তার আওতায় রয়েছেন। শিক্ষকদের জন্য নেওয়া এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সরকার কার্পণ্য করবে না।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে প্রথমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও ওই ধরনের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের সুফল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
একজন শিক্ষকের দায়িত্ব সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কারণ শিক্ষকরাই দেশের তরুণ সমাজকে গড়ে তোলেন। তাই শিক্ষকদের নিজেদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতা বা অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজই একটি দেশকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করে। তাই বাংলাদেশকে উন্নত ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কেএন/টিএ