© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আমরা দেশের ও জাতির প্রশ্নে কখনও আত্মসমর্পণ করব না: রুহুল কবির রিজভী

শেয়ার করুন:
আমরা দেশের ও জাতির প্রশ্নে কখনও আত্মসমর্পণ করব না: রুহুল কবির রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১০ পিএম | ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
‎​দেশ ও জাতির প্রশ্নে কখনোই আত্মসমর্পণ করবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, আমরা গণতন্ত্রের লড়াই করছি, সবকিছু করছি, কিন্তু দেশের প্রশ্নে, জাতির প্রশ্নে আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। আমরা আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের ভূমি রক্ষা করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।
‎
‎​বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।   
‎
‎আলোচনা সভায় ​ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, " দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন-পার্শ্ববর্তী দেশকে যা দেওয়া হয়েছে তা তারা মনে রাখবে। দেশের মানুষের মনের ক্ষোভ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখনই আবরার ফেসবুকে তীক্ষ্ণ ও শাণিত ভাষায় জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই অপরাধেই তাকে ফ্যাসিস্টদের দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে হত্যা করে।"
‎
‎​২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যোগসূত্র টেনে রিজভী বলেন, এই জাতির রক্তের কণায় কণায় বিদ্রোহের যে স্রোত বইছে, তা শেখ হাসিনা শত গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েও স্তব্ধ করতে পারেনি। আবরারের সেই শহীদী আত্মদানেরই চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ২৪-এর জুলাই ও ৫ আগস্টে। যার পরিণতিতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে ভীত শৃগালের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে।
‎
‎তিনি আরও বলেন, বাংলায় প্রবাদ আছে-‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী।’ দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদই ছিল আপসহীন লড়াইয়ের প্রথম শহীদ। আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়ছি, কিন্তু দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কখনোই কারও কাছে আত্মসমর্পণ করব না।
‎
‎​ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছে, মার খেয়েছে। কিন্তু তারা আত্মপ্রতারণার আশ্রয় নেয়নি। খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ তাদের কেউ 'সুপ্ত' কিংবা 'গুপ্ত' বলতে পারে না।
‎
‎এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, "আবরার ফাহাদকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার মাধ্যমে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার একটা সিগন্যাল দিতে চেয়েছিল যে, ওই সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। বিশেষ করে যে রাষ্ট্রের হাতে আমাদের সব সুবিধাগুলো তুলে দেওয়া হচ্ছিল, সেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু বললেই আবরার ফাহাদের ভাগ্য বরণ করতে হবে। কিন্তু আনফরচুনেটলি তা উল্টো ব্যাকফায়ার করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে যেসব ঘটনা সাহায্য করেছিল, তার মধ্যে আবরার ফাহাদের শাহাদাত বরণ অন্যতম কারণ ছিল। ওই নির্মম অত্যাচারই সাধারণ মানুষকে ওই সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে অনুপ্রাণিত করেছে।
‎
‎তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ছাত্রদলের যে নেতাকর্মীরা আছেন তাদেরকে অনুরোধ করব, আমরা যেন মানবিক বোধটা হারিয়ে না ফেলি। এই মানবিক বোধটা যখনই আমরা হারিয়ে ফেলি, তখনই আবরার ফাহাদের যে ঘটনাটা ঘটেছে, সেই ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ১৬ বছর অনেক জুলুম এবং অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করেছে। তারা যে জুলুম ভোগ করেছে, সেটাকে শক্তিতে পরিণত করে এই রাষ্ট্রকে সফল করতে হবে। এই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং সেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নেতৃত্ব ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই আসবে। ভবিষ্যৎ নেতা তৈরি হবে এবং রাষ্ট্রের নেতৃত্ব তাদের হাতে যাবে, সেই আশা করছি।
‎
‎অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব আবরার ফাহাদ হত্যাসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেছিল ছাত্রদল। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে ছাত্রদলের শত শত নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হওয়ার পরও আমরা একদিনের জন্যও রাজপথ ছাড়িনি।
‎
‎ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ছাত্রদল সভাপতি আরও বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। ছাত্রদল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো সেই আপসহীন পথেই রয়েছে। আমরা কখনো এই দেশে ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেব না এবং আবরার হত্যা মামলার রায় অনতিবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।
‎
‎এছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন