জামায়াত কোনো দিনই জাতীয় স্বার্থে রাজনীতি করেনি, দলীয় স্বার্থে করেছে: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৭ এএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াত কোনো দিনই জাতীয় স্বার্থে রাজনীতি করেনি, জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করেনি; তারা দলীয় স্বার্থে রাজনীতি করেছে। ১৯৭১ সালে, ১৯৮৬ সালেও তাই, ২০২৪ সালেও তাই। সব সময় তারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের আগে দলীয় স্বার্থকে রেখেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকালে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কর্তৃক আয়োজিত কমল কুঁড়ি রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ তুলে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, একজন ব্যক্তির অপরাধের মাত্রা কী, সেটি বিবেচনা না করে চট করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে এখন আপনাদের অন্যতম প্রধান নেতা বলছেন, রেমিট্যান্স শাটডাউন করতে। কিন্তু কীভাবে করবেন? রেমিট্যান্স শাটডাউন করার কথা বলার অর্থ কী?
এ সময় রেমিট্যান্স বন্ধের আহবানের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রেমিট্যান্স বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন বন্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আমাদের প্রবাসী আয় দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতির একটি চালিকাশক্তি। আপনি সেই চালিকাশক্তি বন্ধ করার হুমকি দিচ্ছেন! তাহলে আপনারা কিসের রাজনীতি করেন।
রিজভী বলেন, ছাত্ররাজনীতিকে শুধু মিছিল-মিটিং ও স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সমাজ, রাষ্ট্র, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠান ও বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা অর্জন করতে হবে। মেধা, জ্ঞান ও গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলকে নিজেদের বিকশিত করতে হবে। একটা সময় তরুণদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলনে তরুণেরা অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করে সেই হতাশাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। তরুণদের শক্তি ও চেতনা যে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে, ওই আন্দোলন তার প্রমাণ।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমল কুড়ি এর আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন আহমেদ উজ্জ্বল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান প্রমুখ।
এমআই/টিএ