সোমালিল্যান্ডকে আলাদা দেশ মানলেন ট্রাম্প, নতুন নাম দিলেন ‘সোমালিয়া ল্যান্ড’
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪৭ পিএম | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
স্বাধীনতাকামী প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ডকে ‘সম্পূর্ণ আলাদা একটি দেশ’ হিসেবে স্বীকার করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে দেশটির নাম পরিবর্তন করে ‘সোমালিয়া ল্যান্ড’ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, আমি একে সোমালিল্যান্ড না বলে সোমালিয়া ল্যান্ড বলি। কারণ, প্রকৃতপক্ষে এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি দেশ। কিছু মানুষ সোমালিল্যান্ড নামটি পছন্দ করেন, যদিও এর কোনো মানে হয় না।
তিনি আরও বলেন, আমি বলেছি, এটা কি মজা করছেন নাকি? আমার মনে হয়, তাদের অবিলম্বে নাম পরিবর্তন করা উচিত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিডল ইস্ট আই।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ফলে এডেন উপসাগর সংলগ্ন সোমালিল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ পর্যন্ত শুধু ইসরাইলই অঞ্চলটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার সোমালিল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পের বক্তব্যের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সঙ্গে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য সোমালিল্যান্ডের স্বতন্ত্র পরিচয় এবং এর পৃথক রাজনৈতিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নীতিনিষ্ঠ কূটনীতি এবং গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের প্রচেষ্টায় সোমালিল্যান্ড প্রজাতন্ত্র অবিচল রয়েছে।
হর্ন অব আফ্রিকা হিসেবে পরিচিত অঞ্চলটিতে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়া সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। এদিকে গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিয়ায় অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে মিশর। গত মাসে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদি রাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গণমাধ্যমগুলো এ সফরকে সোমালিল্যান্ডের পক্ষে মার্কিন স্বীকৃতি আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে। তবে শেষ পর্যন্ত সফরটি অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা হয়।
ওয়াশিংটন ডিসিতে হাডসন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহির অংশগ্রহণের ভিডিও নিয়েও সমালোচনা হয়। ওই অনুষ্ঠানে তাকে হাসতে, হাঁপাতে এবং অস্পষ্টভাবে কথা বলতে দেখা যায়। সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ, এমন প্রশ্নেরও তিনি স্পষ্ট উত্তর দিতে পারছিলেন না বলে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৬০ সালে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে সোমালিল্যান্ড। প্রতিবেশী সোমালিয়া ছিল ইতালির উপনিবেশ। সোমালিল্যান্ড স্বাধীন হওয়ার পাঁচ দিন পর সোমালিয়াও স্বাধীনতা লাভ করে। পরে দুই অঞ্চল একীভূত হয়ে সোমালি প্রজাতন্ত্র গঠন করে। তবে শুরু থেকেই দুই অঞ্চলের মধ্যে অস্বস্তিকর সহাবস্থান চলছিল। আশির দশকের শেষ দিকে সোমালিয়ার শাসক মোহাম্মদ সিয়াদ বারে সোমালিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এক দশক ধরে যুদ্ধ চলার পর ১৯৯১ সালে সোমালিল্যান্ড স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি পরবর্তী সময়ে সোমালিয়াকে গ্রাস করা গৃহযুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা থেকে নিজেকে আলাদা করে নেয়।
ইয়েমেনের বিপরীত দিকে এডেন উপসাগর বরাবর দীর্ঘ উপকূলরেখা থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সোমালিল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে।ইয়েমেনে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অঞ্চলটি আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে অঞ্চলটির বন্দরনগরী বেরবেরায় একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়েও আগ্রহ দেখাচ্ছে দেশটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও সেখানে ইতিমধ্যে সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছে অবস্থানের কারণে সোমালিল্যান্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অঞ্চলটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং সেখানে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।
এমআর/টিএ