© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জামায়াতের দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দিলেন সেই বিএনপি নেতার স্ত্রী

শেয়ার করুন:
জামায়াতের দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দিলেন সেই বিএনপি নেতার স্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩৪ এএম | ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রয়াত বিএনপি নেতার স্ত্রীকে উপহার দেওয়া সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলাই মেশিন দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি ফেরত দেন ওই নারী। এ ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না, তা নিয়ে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর জামষাইট গ্রামে প্রয়াত বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে সেলাই মেশিনটি ফেরত নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তার স্বামীর এক বন্ধু সেলাই মেশিনটি দিয়েছেন বলে তিনি জানতেন। তবে এটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানার পর এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তিনি মেশিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজেকে বিএনপি পরিবারের সদস্য বলেও উল্লেখ করেন।

ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সেলাই মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারটি মনে করে, এতে তাদের পারিবারিক মানসম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ কারণে ঝুমা আক্তার তাকে ফোন করে মেশিনটি নিয়ে যেতে বলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেটি ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রয়াত বিএনপি নেতার পরিবারটি অসচ্ছল হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সেলাই মেশিনটি উপহার দেওয়া হয়েছিল। এর আগেও পরিবারটিকে গোপনে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। তবে এ সহায়তার কারণে পরিবারটি কোনো রাজনৈতিক বা অন্য ধরনের চাপের মুখে পড়ুক, তা তারা চান না।

অন্যদিকে, বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, মাওলানা ইদ্রিস আলী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সেলাই মেশিনটি দিয়েছিলেন। পরে বিষয়টিকে জামায়াতের সহায়তা হিসেবে প্রচার করায় তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ কারণে পরিবারটি মেশিনটি ফেরত দিয়েছে।

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের উদ্যোগে ওই পরিবারের জন্য শৌচাগার নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন ও বাড়ি মেরামতের কাজ চলছে। পাশাপাশি ঝুমা আক্তারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী বলেন, সেলাই মেশিন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। জামায়াত দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে বিএনপির কেউ চাপ প্রয়োগ করে মেশিনটি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকলে, সেটি তাদের বিষয়।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, সেলাই মেশিনটি ফেরত দেওয়ার পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল না। তার দাবি, ওই নারীর স্বামীর এক বন্ধু ব্যক্তিগতভাবে তাকে মেশিনটি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হলে ওই নারী ক্ষুব্ধ হয়ে মেশিনটি ফেরত দেন। পরিবারটির জীবিকা নির্বাহের জন্য ঝুমা আক্তারের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উত্তর জামষাইট গ্রামে প্রয়াত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী ঝুমা আক্তারের হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা। সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন ঝুমা আক্তার। তার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই সেলাই মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন জামায়াত নেতারা।

আইআর/টিএ

মন্তব্য করুন