কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানালেন মোদি ও মমতা
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৭ এএম | ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে অন্তত ২০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরো অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই কলকাতা ও এর আশপাশ এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল।
সেই বৃষ্টি মাথাই নিয়েই দুর্গাপূজা দেখতে কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। রাতের দিকে বৃষ্টির দাপট বাড়লে সেই বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে আশ্রয় নেন। তখন প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে এবং অনেক দর্শনার্থী চাপা পড়েন।
এ দুর্ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আমরা হতাহতদের পরিবারের লোকেদের পাশে দাঁড়াবার জন্য যা যা করার তাই করছি। ওখানে আমাদের এসটিএফ, ফায়ার সার্ভিস, কলকাতা পুলিশ সবাই আছে। এখন ওখানে কোনো ভিড় নেই, ফাঁকা হয়েছে। এই মুহূর্তে কোনো ভিড় নেই।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার দুঃখ জানানোর মতো কোনো ভাষা নেই। আমাদের সরকারের সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। গুরুতর আহত ২৫ জনের উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া আমাদের প্রথম কাজ।
রাজ্যবাসীর উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমি গোটা রাজ্যবাসীকে বলব, এটা একটি শোকের ঘটনা। নিশ্চিতভাবে আমরা দায়িত্ব নিয়ে যা করার করব। ভয় পাওয়ার দরকার নেই। পুজো কমিটিগুলোকে বলব- অনেক জায়গায় হঠাৎ বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জায়গায় থিম পূজা করেছে। এবং অতিরিক্ত দর্শনার্থীও হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা আটকাবার জন্য যা যা প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার এই সমস্ত প্রস্তুতি নিতে হবে।
এ ঘটনার পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, কলকাতার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি এবং সমবেদনা জানাই। আহতরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক। প্রশাসন সমস্ত রকমের সহযোগিতা করছে।
দুঃখ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মমতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদপৃষ্টের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। আমি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, যেন আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তাদের পরিবারগুলো এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় শক্তি ও সাহস লাভ করে।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বর্তমানে চোরবাগান পূজামণ্ডপ অঞ্চলের উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো এলাকাটি কলকাতা পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
এমআর/এসএন