স্বপ্নের নারীকে পেতে সবকিছু বিক্রি করে ১৯০০ কিমি পাড়ি, পরে জানলেন চরিত্রটি এআই দিয়ে তৈরি
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০০ পিএম | ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলের বেশি (১ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দেন ৪৯ বছর বয়সী ব্রাজিলের এক ব্যক্তি। উদ্দেশ্য স্বপ্নের নারীর সঙ্গে দেখা করা। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র।
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও রাজ্যের ইদিমার মার্টিনস পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে তিনি জানান, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামে এক নারীর অ্যাকাউন্ট প্রথম তার নজরে আসে। ওই নারী জেসিকা ফাজেন্দেইরা নামেও পরিচিত।
অ্যাকাউন্টটিতে ৩ লাখের বেশি অনুসারী ছিল বলে জানা গেছে। সেখানে এক নারীকে খামারে গ্রামীণ পরিবেশে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করতে দেখা যেত। তিনি পুরুষদের তার সঙ্গে এসে বসবাসের আমন্ত্রণ জানাতেন। পাশাপাশি থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিতেন।
মায়ের মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গতায় ভুগছিলেন মার্টিনস। নতুন করে জীবন শুরু করতে ওই নারী তাকে সহায়তা করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন তিনি। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই চরিত্রটি তাকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি নিজের খামারে থাকার জায়গা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মার্টিনস। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পেয়েছেন। গত ৯ অক্টোবর যাত্রার খরচ জোগাতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে রওনা হন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কিন্তু সেখানে গিয়ে তার স্বপ্ন ভেঙে যায়। ওই নারীর ছবি সঙ্গে নিয়ে শহরজুড়ে তাকে খুঁজতে থাকেন তিনি। বিভিন্ন মানুষকে ছবিটি দেখিয়ে জানতে চান, তারা ওই নারীকে চেনেন কি না। কিন্তু কেউই তাকে শনাক্ত করতে পারেননি।
একপর্যায়ে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে যান মার্টিনস। সেখানে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি ভুয়া। পরে তিনি জানতে পারেন, যাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন, চরিত্রটি এআই দিয়ে তৈরি। তবে মার্টিনসের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি। ওই কাল্পনিক নারী চরিত্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘স্পষ্ট বিষয়টি জানাতেই আমি এখানে এসেছি: আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এই প্রোফাইল ব্যবহার করে আমি কারও সঙ্গে কখনো কথা বলিনি। উদ্দেশ্য ছিল অ্যাকাউন্টের এনগেজমেন্ট বাড়িয়ে তা বিক্রি করা। আমি সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলিনি, কাউকে বেলো হরিজন্তেও নিয়ে যাইনি। এখানে যা ঘটছে, তা দেখে আমি নিজেও অবাক হয়েছি।’
যাত্রার পেছনে সব টাকা খরচ করে শহরটিতে আটকা পড়েন মার্টিনস। পরে তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান। সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুবিধা এবং শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিটসহ বিভিন্ন সহায়তা দেন।
হতাশ হলেও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিনস। বর্তমানে তিনি পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে থাকছেন। তবে স্থায়ীভাবে সংসার গড়তে পারবেন—এমন কারও সঙ্গে দেখা হওয়ার আশায় আবারও বেলো হরিজন্তে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। মার্টিনস বলেন, ‘আমি তাকে খুঁজে পাইনি, কিন্তু অন্য কাউকে খুঁজে পাব। আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম, সেখানেই আবার যাব।’
দ্য সান-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মার্টিনস তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি এআই দিয়ে তৈরি চরিত্রের সঙ্গে দেখা করার আশায় বেলো হরিজন্তে ভ্রমণ করেছেন।
আরআই/টিএ