© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চাকরির ইন্টারভিউতে নারীকে এইচআরের প্রশ্ন, ‘শিগগিরই সন্তান নিবেন কিনা?’

শেয়ার করুন:
চাকরির ইন্টারভিউতে নারীকে এইচআরের প্রশ্ন, ‘শিগগিরই সন্তান নিবেন কিনা?’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১১ পিএম | ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
চাকরিপ্রত্যাশী নারীকে ইন্টারভিউতে প্রশ্ন করা হলো পারিবারিক পরিকল্পনা সম্পর্কে। এমন ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন শাতাক্ষী দ্বিবেদী নামের ওই নারী। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ওই নারী এ বিষয়ে জানান। শাতাক্ষী দ্বিবেদী জানান, তিনি বিবাহিত জানার পর মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআর) এক প্রতিনিধি তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি শিগগিরই সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে ভারতের এই ঘটনাটি তুলে ধরে দ্বিবেদী বলেন, সাক্ষাৎকারে তাকে করা সবচেয়ে অনুপযুক্ত প্রশ্নগুলোর একটি ছিল এটি।

দ্বিবেদীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে কথোপকথনে বাস্তব কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল তিনি কোথায় থাকেন এবং অফিসে যাতায়াত করতে তার কোনো অসুবিধা হবে কি না। তিনি জানান, যাতায়াত নিয়ে তার কোনো সমস্যা নেই। তার স্বামীও একই এলাকায় যাতায়াত করেন বলে তিনি তার সঙ্গে যেতে পারবেন বলেও জানান।

তবে এইচআর প্রতিনিধি তাকে শিগগিরই সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, তা জিজ্ঞেস করলে কথোপকথন অপ্রত্যাশিত দিকে মোড় নেয়। এইচআর প্রতিনিধি বলেন, “একটা প্রশ্ন করতে আপনার আপত্তি নেই তো? আপনি শিগগিরই সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা করছেন না, তাই তো?”

প্রশ্নটি শুনে দ্বিবেদী হতবাক হয়ে যান। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নে সহায়তার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দ্বিবেদী বলেন, ‘এরপর আমরা আবার কাচের ছাদ ভাঙার কথা বলি। এসব প্রতিষ্ঠানই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলে।’

সাক্ষাৎকারটি কোন প্রতিষ্ঠানে হয়েছিল, তা জানাননি দ্বিবেদী। তবে তার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারীর সঙ্গে মিলে গেছে। তাদের অনেকে চাকরির সাক্ষাৎকারে বিয়ে, সন্তান ও পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার একই ধরনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ কেউ দ্বিবেদীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। অন্যরা বলেছেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অবিবাহিত নারীদেরও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, তারা বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন কি না, সেই প্রশ্নও।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সাক্ষাৎকারে অবিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে বিয়ে করবেন? বিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে সন্তান নেবেন? সন্তান থাকলে জিজ্ঞেস করা হয়, কাজ আর সন্তান কীভাবে সামলাবেন? অর্থাৎ, ২২ বছর বয়স থেকে শুরু করে চাকরি ছাড়ার আগ পর্যন্ত, কিংবা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত—এই দ্বিমুখী মানসিকতার সমাজে সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন চলতেই থাকবে।’

আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘আমার সঙ্গেও এমন হয়েছে। তারা সরাসরি আমার সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। ২০২৬ সালেও নারীদের এমন অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হচ্ছে।’

তৃতীয় এক ব্যবহারকারী বলেন, “জবাবটা এমন হওয়া উচিত ছিল, ‘দুঃখিত, আমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ আমি মেনে নিই না।’ অথবা শুধু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে চুপ থাকা উচিত।”

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন