রাজনৈতিক রোষানল ও দুর্নীতির প্রতিবাদ: হয়রানির শিকার বিআরটিসির নূর-ই-আলম
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৯ পিএম | ২১ অক্টোবর, ২০২৬
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার কারণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তা মো. নূর-ই-আলম বারবার প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, একটি অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছে।
বিআরটিসির বিভিন্ন সূত্র জানায়, অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল না দেওয়া এবং ঢাকার সিটি নির্বাচনে তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রে বিরোধী দল বেশি ভোট পাওয়ার অজুহাতে তাঁকে রাজনৈতিক রোষানলে পড়তে হয়। হজে যাওয়ার পর ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে তিনি ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানানো থেকে বিরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয় তৎকালীন প্রশাসন।
ভুক্তভোগী এই কর্মকর্তাকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৩৮ মাস কার্যত কোনো দায়িত্ব না দিয়ে ওএসডি করে রাখা হয়। অথচ বিআরটিসির পরিপত্র অনুযায়ী ব্যবস্থাপক (সচিব) হিসেবে তাঁর সব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কথা।
অভিযোগের জবাবে নূর-ই-আলম
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মো. নূর-ই-আলম বলেন, প্রকৃত নথি ও দায়িত্বের পরিধি যাচাই না করেই তাঁর নাম জড়ানো হয়েছে।
বাস কেটে বিক্রি: কল্যাণপুর ডিপোর অকেজো বাস বিক্রির বিষয়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বাসটি তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দায়িত্ব হস্তান্তরের নথি দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
রাজস্ব জমা ও কেনাকাটা: আর্থিক লেনদেন ও কেনাকাটা একাধিক স্তরের অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর দায় এককভাবে কোনো কর্মকর্তার ওপর চাপানো যায় না।
লিজ ও রুট পরিচালনা: ২০২৬ সালের লিজ ও রুট পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর ওপর ছিল না।
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ: নূর-ই-আলম বলেন, “অভিযোগ ওঠা আর প্রমাণিত হওয়া এক নয়। কোনো চূড়ান্ত তদন্ত ছাড়াই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” পাশাপাশি একটি চক্র তাঁর কাছে ফোনে অর্থ দাবি করছে জানিয়ে তিনি অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
লোকসান কাটিয়ে লাভজনক করার রেকর্ড
বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, নূর-ই-আলম যেখানেই দায়িত্ব পেয়েছেন, সেখানেই শৃঙ্খলা ফিরিয়েছেন।
মোহাম্মদপুর ডিপো: দায়িত্ব নেওয়ার সময় ৫৩ লাখ টাকার বেতন বকেয়া ছিল। তিনি দ্রুত সেই বকেয়া পরিশোধ করে নিয়মিত লাভ নিশ্চিত করেন।
কল্যাণপুর ডিপো: ২০২১ সালে ৫ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি নিয়ে দায়িত্ব শুরু করেন। ২০২৩ সালে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ৭ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত রেখে যান।
জোয়ার সাহারা ডিপো: ২০১৮ ও ২০২২ সালে তীব্র অসন্তোষ ও আর্থিক অনিয়মের সময়ে তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি স্বল্প সময়ে বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনেন।
গাজীপুর ও সিলেট ডিপো: গাজীপুরে ৬৮ লাখ টাকার বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন। এছাড়া সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের প্রায় ২৪ লাখ টাকা বৈদেশিক ঋণ (ডিএসএল) পরিশোধে ভূমিকা রাখেন।
বিআরটিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নূর-ই-আলম একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা। অন্যায়ের সাথে আপস না করায় অসাধু চক্র তাঁর ক্ষতি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।”
এক চালক বলেন, “যে কজন সৎ ম্যানেজারের অধীনে কাজ করেছি, তিনি তাঁদের অন্যতম। এমন কর্মকর্তা আমাদের জন্য গর্বের।”
এ বিষয়ে নূর-ই-আলম বলেন, “আমি কাজকে ইবাদত মনে করি। যেখানেই দায়িত্ব পেয়েছি, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি।”
এমআর/টিএ