© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ট্রাম্পের ‘মাদার অব অল বোম্বস’র জবাবে ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের

শেয়ার করুন:
ট্রাম্পের ‘মাদার অব অল বোম্বস’র জবাবে ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫২ পিএম | ২২ অক্টোবর, ২০২৬
'ফাদার অব অল বোম্বস' বা 'সব বোমার বাবা' প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। বুধবার (২১ অক্টোবর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের ইয়াং জার্নালিস্ট ক্লাব নিউজ এজেন্সিকে দেয়া এক বিবৃতিতে মোহেবি বলেন, 'আমরা সব বোমার বাবা প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছি। এটি শত্রুদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয় হবে।' তবে এই নতুন অস্ত্র সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জিবিইউ-৪৩/বি বা 'মাদার অব অল বোম্বস' (সব বোমার মা) ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়ার পরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এলো। প্রায় ৯,৮০০ কেজি ওজনের এই বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা অন্যতম বৃহৎ অ-পারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে আইএস-এর (দায়েশ) একটি সুড়ঙ্গে এটি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল।

মোহেবি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বেড়েছে। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, 'ক্ষেপণাস্ত্রের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে এবং এদের পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা বেড়েছে।'

আইআরজিসির এই মুখপাত্র জানান, ইরান তাদের প্রতিরক্ষা নীতিকে স্থায়ী ও নিরঙ্কুশ প্রতিরোধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'আগে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ছিল সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক।

আমরা বলতাম, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা জবাব দেব। এখন আমরা বলছি, কোনো দেশ যদি আমাদের আক্রমণ করে, তবে আমরা শুধু জবাবই দেব না, বরং পাল্টা আক্রমণও চালাব।'

যেকোনো হামলার জবাবে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দিয়ে মোহেবি বলেন, 'আমাদের নীতি আর কেবল আক্রমণাত্মক থাকবে না; এটি হবে অপ্রতিসম। আমরা শত্রুকে এমনভাবে আক্রমণ করব যাতে তারা আমাদের জবাবের তীব্রতা অনুভব করতে পারে।'

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। তবে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের জেরে পরে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন