© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ট্রান্সজেন্ডারদের না বলা বাস্তবতা তুলে ধরে পুরস্কার জিতল ‘আমান’

শেয়ার করুন:
ট্রান্সজেন্ডারদের না বলা বাস্তবতা তুলে ধরে পুরস্কার জিতল ‘আমান’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৪৭ এএম | ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
ট্রান্সজেন্ডার মানুষের পরিচয়, সম্পর্ক ও জীবনসংগ্রামের এমন কিছু বাস্তবতা রয়েছে, যা নিয়ে সমাজে খুব কমই আলোচনা হয়। সেই না বলা গল্পই পর্দায় তুলে ধরেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমান’।

ছবিটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাহুল রয়ে। এতে আমান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৩৪ বছর বয়সী কবির মান। এটি তার প্রথম চলচ্চিত্র।

ছবিতে আমান একজন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ। লিঙ্গনিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচারের কিছুদিন আগে তিনি জানতে পারেন, তিনি গর্ভবতী। একজন সিসজেন্ডার পুরুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন বিষয় নিয়ে সমাজে প্রচলিত ধারণা ও ট্যাবুকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে ছবিটি।

কবির মান জানান, প্রথমে চরিত্রটি নিয়ে তার দ্বিধা ছিল। নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করার পর এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করলে সমাজের পুরনো ধারণাগুলোই আবার তুলে ধরা হবে কি না, তা নিয়ে ভেবেছিলেন তিনি। পরে তার মনে হয়, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরো বেশি মানুষকে জানানো সম্ভব।

ছবির কয়েকটি দৃশ্য তার জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল বলেও জানান কবির। নিজের জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতার স্মৃতি কাজে লাগিয়ে চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।

তার কাছে ছবিটি ব্যক্তিগত যন্ত্রণা প্রকাশের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের কাছে নিজের পরিচয় ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

সাক্ষাৎকারে কবির নিজের জীবনের নানা বাধার কথাও বলেছেন। তার দাবি, শিক্ষাগত সনদে নাম সংশোধন, শিক্ষকতার চাকরিতে আবেদন এবং পাসপোর্ট নবায়নের সময় লিঙ্গপরিচয়সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, ট্রান্সজেন্ডার মানুষের সংগ্রাম শুধু সামাজিক গ্রহণযোগ্যতায় সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়।

‘আমান’ চলচ্চিত্রটি সেই পরিচয়, সংগ্রাম ও না বলা অভিজ্ঞতাগুলো সামনে এনেছে। লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জয় ছবিটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জীবন নিয়ে আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন