© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’, রাহুলকে ‘ব্যর্থ পণ্য’ বললেন মোদি

শেয়ার করুন:
কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’, রাহুলকে ‘ব্যর্থ পণ্য’ বললেন মোদি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫১ এএম | ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, দলটি অন্যদের এগিয়ে যেতে দিতে চায় না। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীকে ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করেছেন, কংগ্রেস কত দিন ধরে তাদের ‘ব্যর্থ পণ্য’ বাজারে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের কণ্ঠও চাপা পড়ে যাচ্ছে।

মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন নানা ধরনের অস্থিরতা চলছে, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী ভারতের ভাবমূর্তি তুলে ধরা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু মানুষ ভারতের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ব্যস্ত। তারা বিদেশে গিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।

কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিজেদের ব্যর্থ নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দলটি কত দিন ধরে দেশের স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষায়, শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা হয়, কংগ্রেস তার নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে তার চেয়েও বেশি ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।

কংগ্রেসের নেতৃত্বে গান্ধী পরিবারের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, কংগ্রেসের নিজেদের অবনতি নিয়ে তার আপত্তি নেই। কিন্তু একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার দায় থেকে রক্ষা করতে গিয়ে দলটি ভারতের অর্জন, শক্তি ও অগ্রগতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মোদি আরও বলেন, গান্ধী পরিবার এখন কংগ্রেসের জন্য বোঝা হয়ে উঠেছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও ব্যক্তিগত আলোচনায় বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে অপমান সহ্য করেও তাঁরা নীরব থাকছেন।

কংগ্রেসের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তার অভিযোগ, সংসদে বিরোধী দলের অনেক তরুণ ও মেধাবী সংসদ সদস্য সরকারের সমালোচনা ও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চান। কিন্তু কংগ্রেসের বাধার কারণে তারা সে সুযোগ পান না। একজন নেতাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতেই দলটি সংসদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় বলে দাবি করেন তিনি।

মোদি বলেন, গণতন্ত্রে সরকারের ত্রুটি তুলে ধরা এবং ব্যবস্থাগত সংস্কারের দাবি জানানো স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। কিন্তু কংগ্রেসের কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা সংস্কার আন্দোলনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দলটি অন্য কাউকে এগিয়ে যেতে দিতে চায় না। তার অভিযোগ, ‘দিমাগি নকশাল’ বা মস্তিষ্কে নকশাল চিন্তাধারার প্রভাব রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা কংগ্রেসের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেছেন। একসময় যারা জঙ্গলে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতেন, তারা এখন কংগ্রেসে প্রবেশ করে দেশকে ধ্বংস করতে চাইছেন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বব্যবস্থা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব উপলব্ধি করেছিল, সংলাপ ও সহযোগিতা অপরিহার্য। দীর্ঘ সময় ধরে জাতিসংঘও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে পরবর্তী সময়ে নতুন শক্তির উত্থান ঘটেছে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়েছে।

মোদি বলেন, একসময় যেসব দেশ বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে ছিল না, তারাও ধীরে ধীরে নিজেদের ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু বিশ্বব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলায়নি। ফলে বর্তমান বাস্তবতা ও বিদ্যমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাণিজ্যকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথগুলোও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

মোদি বলেন, চ্যালেঞ্জটি শুধু নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পরিবর্তিত বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব জোরদার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন