© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইত্যাদির রূপকার হানিফ সংকেতের জন্মদিন আজ

শেয়ার করুন:
ইত্যাদির রূপকার হানিফ সংকেতের জন্মদিন আজ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪২ পিএম | ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলাদেশের টেলিভিশন বিনোদনের জগতে পরিচিত একটি নাম হানিফ সংকেত। উপস্থাপনা, নাটক নির্মাণ, লেখালেখি কিংবা সামাজিক সচেতনতামূলক আয়োজন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনা, রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় নির্মিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ কয়েক দশক ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে আসছে। আজ ২৩ অক্টোবর এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জন্মদিন।

১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন হানিফ সংকেত। আশির দশকে প্রখ্যাত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফজলে লোহানীর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’-এর মাধ্যমে টেলিভিশনে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তী সময়ে নিজস্ব উপস্থাপনা ও নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে তিনি বিনোদন অঙ্গনে আলাদা অবস্থান তৈরি করেন।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে শুরু হয় হানিফ সংকেতের পরিকল্পনা, রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ‘ইত্যাদি’। সময়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন আয়োজনগুলোর একটি। হাস্যরস, ব্যঙ্গ, সংগীত, নাট্যাংশ ও বিচিত্র আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক নানা বিষয় তুলে ধরার কারণে অনুষ্ঠানটি পেয়েছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা।



‘ইত্যাদি’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিনোদনের মধ্য দিয়ে সমাজের অসংগতি তুলে ধরা। দুর্নীতি, শিক্ষা, পরিবেশসহ নানা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রচারবিমুখ প্রতিভাবান মানুষদের জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রেও হানিফ সংকেতের উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।

শুধু ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। টেলিভিশনের জন্য বিশেষ নাটক ও টেলিছবি নির্মাণের পাশাপাশি লেখালেখিতেও রেখেছেন স্বাক্ষর। ব্যঙ্গ ও রম্যরচনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রকাশিত বই রয়েছে। তাঁর বাচনভঙ্গি, পরিমিত রসবোধ এবং শুদ্ধ উপস্থাপনা তাঁকে দর্শকদের কাছে স্বতন্ত্র মর্যাদা এনে দিয়েছে।

সংস্কৃতি ও সমাজের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হানিফ সংকেত পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। ২০১০ সালে একুশে পদক, ২০১৪ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক এবং ২০২৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

দীর্ঘ কর্মজীবনে হানিফ সংকেত দেখিয়েছেন, বিনোদন কেবল আনন্দ দেওয়ার মাধ্যম নয়; এর মধ্য দিয়ে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। জন্মদিনে এই গুণী নির্মাতার কর্মজীবন ও অবদান তাই নতুন করে আলোচনায় আসছে।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন