© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বেগম জিয়ার পৈতৃক ভূমিতে ৬ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী হতে চান ৭১ জন

শেয়ার করুন:
বেগম জিয়ার পৈতৃক ভূমিতে ৬ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী হতে চান ৭১ জন

ছবি: সংগৃহীত

কাওছার আহমেদ, মোবাইল জার্নালিস্ট, ফেনী
০৫:৪২ পিএম | ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
ফেনীর ফুলগাজীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তৎপরতা। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ৭১ জন। একই সঙ্গে সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে দলীয় সমর্থন চেয়ে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন ২৮৫ জন। সব মিলিয়ে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে বিএনপির মনোনয়ন ও সমর্থনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ৩৫৬ জন।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক ভূমি হিসেবে পরিচিত এ উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন ব্যাপক অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান পদে বিপুলসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত টানা দুই দিন সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়। এ সময়ে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে আগ্রহীরা তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন।

দলীয় হিসাব অনুযায়ী, ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। অন্যদিকে, ৫৪টি ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশী ২৮৫ জন। এখন এসব জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঞা বলেন, আমরা জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছি। যাচাই-বাছাই করে যারা দলের জন্য ত্যাগী, সৎ ও যোগ্য, তাদের নাম স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দ্রে পাঠাব।

এদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনেকে ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তাঁরা। স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

তবে এতসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন সহজ হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, প্রার্থী বাছাইয়ে সাংগঠনিক ভূমিকা, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখাও দলটির জন্য বিবেচ্য বিষয়।

স্থানীয়দের মতে, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া কোনো প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

সব মিলিয়ে ফুলগাজীর ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭১ জনের মনোনয়নপ্রত্যাশা এবং সদস্য পদে ২৮৫ জনের দলীয় সমর্থন চাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থী নির্বাচনে দল কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর সম্ভাব্য প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন