© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অস্কারজয়ী অভিনেত্রী হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েলের প্রয়াণ দিবস আজ

শেয়ার করুন:
প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অস্কারজয়ী অভিনেত্রী হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েলের প্রয়াণ দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:৩৯ পিএম | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
হলিউডের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অস্কারজয়ী অভিনেত্রী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েল। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অস্কার জিতলেও জীবদ্দশায় তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে বর্ণবৈষম্যের। একদিকে অভিনয়জগতে ঐতিহাসিক সাফল্য, অন্যদিকে সামাজিক বৈষম্যের কঠিন বাস্তবতা- দুইয়ের মধ্য দিয়েই কেটেছে তাঁর জীবন। ১৯৫২ সালের ২৬ অক্টোবর স্তন ক্যানসারে মারা যান এই অভিনেত্রী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

১৮৯৩ সালের ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েল। অভিনয়ের পাশাপাশি গায়িকা, গীতিকার ও কৌতুকশিল্পী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। বিনোদনজগতে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন চলচ্চিত্রে। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে ওঠে ১৯৩৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ সিনেমা।



সিনেমাটিতে ম্যামি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়েন হ্যাটি। এই চরিত্রের জন্য ১৯৪০ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে অস্কার জেতেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে অস্কার জয়ের ইতিহাস গড়েন এই অভিনেত্রী। তাঁর এই অর্জন হলিউডের পুরস্কারের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রয়েছে।

তবে অস্কারজয়ের গৌরবও তাঁকে বর্ণবৈষম্যের বাস্তবতা থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ সিনেমার আটলান্টা প্রিমিয়ারে অংশ নিতে পারেননি তিনি। কারণ, অনুষ্ঠানটি হয়েছিল এমন একটি প্রেক্ষাগৃহে, যেখানে কেবল শ্বেতাঙ্গদের প্রবেশের অনুমতি ছিল। যে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, সেই চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনেই তাঁকে বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

মৃত্যুর পরও বৈষম্যের এই অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি মেলেনি হ্যাটির। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল হলিউডের একটি সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত হওয়া। কিন্তু সেখানে বর্ণভিত্তিক বৈষম্য চালু থাকায় সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। অভিনয়জগতে ঐতিহাসিক অর্জনের পরও জীবনের শেষ অধ্যায়ে এমন বৈষম্যের শিকার হওয়া তাঁর জীবনের এক বেদনাদায়ক দিক।

অভিনয়ে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েলকে আজও স্মরণ করা হয়। হলিউড ওয়াক অব ফেমে রয়েছে তাঁর নাম। ২০০৬ সালে তাঁর ছবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হয়। এসব স্বীকৃতি চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছে।

হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েলের জীবন তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়, বরং বৈষম্যের মধ্যেও নিজের প্রতিভা দিয়ে ইতিহাস গড়ে তোলার এক অধ্যায়। অস্কারজয়ের মাধ্যমে তিনি যে পথের সূচনা করেছিলেন, তা পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে অভিনয়জগতে অবদান এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা নতুন করে স্মরণ করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন