বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৯ এএম | ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
চলতি বছর বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য গড়ে ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সময়ে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে আগামী বছর সামগ্রিক পণ্যমূল্য কমলেও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ‘অক্টোবর ২০২৬ : কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে দাঁড়াতে পারে। ২০২৫ সালে এ দাম ছিল ৬৯ ডলার। অবশ্য ২০২৭ সালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নামতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এতে তেলের মজুত কমে যাওয়ায় নতুন করে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ বেড়েছে। কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার পরিশোধিত জ্বালানি তেলের উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাধা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। আগামী বছর দাম বাড়তে পারে আরও ৭ শতাংশ। ফলে দুই বছরে খাদ্যপণ্যের দাম সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানিতে বিঘ্ন, এল নিনোর প্রভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য কৃষিপণ্যের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। গত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৭ সালে খাদ্যশস্যের দাম আরও ৯ শতাংশ বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হলে এবং এল নিনোর প্রভাব আশঙ্কার চেয়ে বেশি হলে খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়তে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের স্তর ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হতে পারে।
জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ধাতু ও খনিজের দামও বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ধাতু ও খনিজের গড় দাম গত বছরের তুলনায় ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ডেটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরবরাহের সীমাবদ্ধতায় অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের দাম বেড়েছে। মূল্যবান ধাতুর দামও এ বছর প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সামগ্রিক পণ্যমূল্য সূচক ৭ শতাংশ কমতে পারে। তবে এ পূর্বাভাস নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বড় আকারে ছড়িয়ে না পড়া, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে পণ্য রপ্তানির বাধা কমে আসা এবং এল নিনোর কারণে ফসলের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে থাকার ওপর।
পরিস্থিতির অবনতি হলে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের স্তর ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হতে পারে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সংস্থাটির বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকে পুঁজি সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
নেওয়া হচ্ছে।
কেএন/এসএন