© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দিল্লিতে যমুনায় ডুব দিলেন বিজেপি নেতা, বললেন দূষণ অর্ধেক কমে গেছে

শেয়ার করুন:
দিল্লিতে যমুনায় ডুব দিলেন বিজেপি নেতা, বললেন দূষণ অর্ধেক কমে গেছে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫৮ পিএম | ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
দিল্লিতে যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে আবার শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সোনিয়া বিহার ঘাটে যমুনা নদীতে ডুব দিয়ে পানি পান করেছেন বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি। তার দাবি, রেখা গুপ্তার সরকারের প্রচেষ্টায় গত এক বছরে যমুনার দূষণ অর্ধেক কমে গেছে এবং এখন এখানে ছট পূজাও উদযাপন করা সম্ভব।

মনোজ তিওয়ারি বলেন, 'এই নদীতে পরিযায়ী পাখিদের আগমন প্রমাণ করে যে পানি কতটা পরিষ্কার হয়েছে। পানি পরিষ্কার না হলে এই পাখিরা আসত না। এখানে হয়তো কুমির থাকতে পারে, তবে কুমির কেবল পরিষ্কার পানিতেই আসে।' তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি সরকার দেড় বছরে যমুনার অর্ধেক পরিষ্কার করেছে, যা আগের সরকারগুলো করতে ব্যর্থ হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যমুনায় ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন।

তবে বিজেপির এই দাবির কড়া জবাব দিয়েছে আম আদমি পার্টি (আপ)। দলটির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, 'বিজেপি নেতারা দিল্লির বিষয়ে কিছুই জানেন না। পাল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত যমুনার ২৬ কিলোমিটার অংশ সবসময়ই তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে। আপ সরকারের সময় এটি আরও বেশি পরিষ্কার ছিল।' তিনি মনোজ তিওয়ারি ও পানিমন্ত্রী পারভেশ ভার্মাকে কালিন্দি কুঞ্জ ঘাটে যমুনার পানি পান করার পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানান।

যমুনার দূষণ নিয়ে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি দাবির মাঝে ডিপিসিসি-এর তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। পানিতে দূষণের মাত্রা মাপার অন্যতম সূচক হলো বিওডি (বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড)। গোসলের জন্য পানিতে বিওডি-এর মাত্রা প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ৩ মিলিগ্রাম হওয়া উচিত। পাল্লা এলাকায় এটি ২ মিলিগ্রাম থাকলেও আইএসবিটি ব্রিজে তা ৩০ মিলিগ্রাম এবং আইটিও এলাকায় ১৮ মিলিগ্রামে পৌঁছায়, যা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া মানুষের ও প্রাণীর বর্জ্যের কারণে পানিতে ফিক্যাল কলিফর্মের মাত্রাও আইএসবিটি ব্রিজে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১৪ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি যমুনা নদী পরিষ্কার করতে ৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকার ৪৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৯ সালের মে মাসের মধ্যে দিল্লির যমুনা পুরোপুরি পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু অংশে নদীর পানি কিছুটা পরিষ্কার হলেও যমুনাকে পুরোপুরি দূষণমুক্ত ও নিরাপদ ঘোষণা করতে এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন