© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুইবার ইনজেকশন দেয়ার পরও বেঁচে যান, এবার মুখ খুললেন সেই নারী

শেয়ার করুন:
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুইবার ইনজেকশন দেয়ার পরও বেঁচে যান, এবার মুখ খুললেন সেই নারী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৮ পিএম | ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার পরও বেঁচে যাওয়া সেই নারী প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয় ক্রিস্টা পাইক (৫০) নামের ওই নারী এক মাস পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন, ‘কিন্তু সেরে ওঠা আর ভালো থাকা এক বিষয় নয় (Healing is not the same as being okay)।’

পাইক বলেন, ‘সেই রাতের পর এমন একটি মুহূর্তও যায়নি, যখন আমি ব্যথামুক্ত ছিলাম। আমার শরীরে ব্যথা হয়। হাত ও বাহুতে ব্যথা হয়। গলায় ব্যথা হয়। এখনো কথা বলতে কষ্ট হয়। আর এই ব্যথা শুধু শারীরিক নয়। আমার মন ও আত্মায়ও যন্ত্রণা রয়েছে।’

তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, লিখিত বিবৃতিটি পাইক তাদের বলে দিয়েছেন এবং তারা সেটি লিখে নিয়েছেন।

১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে মারধর ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করে টেনেসি অঙ্গরাজ্য। এ সময় তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি বেঁচে যান এবং হাসপাতালে ভর্তি হন।

ব্যর্থ ওই প্রক্রিয়ার পরপরই পাইককে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্রে (ভেন্টিলেটর) রাখা হয়েছিল। তখন তার আইনজীবীরা মনে করেছিলেন, তিনি আর বাঁচবেন না। তবে পরে জ্ঞান ফিরে আসে তার। এরপর সহায়তা নিয়ে কথা বলা ও হাঁটাচলা শুরু করেন।

বিবৃতিতে পাইক বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে ‘হাসপাতালে একা, বিভ্রান্ত ও ব্যথাকাতর অবস্থায় জ্ঞান ফিরে আসে’।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর এটিই পাইকের প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রাণঘাতী রাসায়নিক ইনজেকশন দেয়ার পর বেঁচে যাওয়া তিনিই একমাত্র ব্যক্তি।

দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ঠেকাতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু করেছেন পাইক। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর চলতি মাসের শুরুর দিকে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো তার চিকিৎসা চলছে।

পাইক বলেন, ‘সেই রাতের পর থেকে কারাগারের চিকিৎসা ওয়ার্ডে আমাকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। অন্য মানুষ এবং আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সম্পর্কগুলো থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতাও একধরনের যন্ত্রণা তৈরি করে। আমি ২৮ বছর নির্জন কারাবাসে কাটিয়েছি। এখন যা কিছু অনুভব করছি, তার অনেকটাই সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি।’

সূত্র: সিএনএন

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন