কিংবদন্তি শচীন দেব বর্মণের ৫১তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০৭ পিএম | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
জন্ম বাংলাদেশের কুমিল্লায়, অথচ তাঁর সুরের বিস্তার ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো উপমহাদেশে। কালজয়ী অসংখ্য গানের স্রষ্টা ও কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী শচীন দেব বর্মণের ৫১তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ। ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর ৬৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন বাংলা সংগীতের এই দিকপাল।
১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন শচীন দেব বর্মণ। তাঁর পৈতৃক আদি নিবাস ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। সংগীতজগতে নিজের স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে অল্প সময়েই শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই’, ‘কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া’, ‘নিশীথে যাইও ফুল বনে রে ভ্রমরা’ ও ‘তুমি আর নেই সে তুমি’র মতো অসংখ্য কালজয়ী গান আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
শুধু সংগীতেই নয়, বাংলাদেশের মানুষের প্রতিও ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধপীড়িত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন এই শিল্পী। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির যুদ্ধ তহবিলের জন্য মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার ও বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড। ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত করে। এছাড়া ১৯৩৪ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় সংগীত সম্মেলনে অর্জন করেন স্বর্ণপদক।
প্রখ্যাত গীতিকার মীরা দেব বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শচীন দেব বর্মণ। তাঁদের একমাত্র সন্তান রাহুল দেব বর্মণ পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সংগীতজগতের অন্যতম খ্যাতিমান সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
কুমিল্লার মাটি থেকে শুরু হওয়া শচীন দেব বর্মণের সংগীতযাত্রা ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ-দেশান্তরে। তাঁর সৃষ্টি করা গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সমানভাবে জনপ্রিয়। মৃত্যুর ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন এই কিংবদন্তি।
এসএ/টিএ