রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৩ পিএম | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক পরিবেশে। যুদ্ধের কারণে এ সাগরে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ, নৌ-মাইন, জাহাজডুবি ও তেল ছড়িয়ে পড়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর বছরেই প্রায় ৫০ হাজার ডলফিন মারা যায়। ২০২৬ সাল নাগাদ মৃত ডলফিনের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। কৃষ্ণসাগরের মোট তিমি ও ডলফিনজাতীয় প্রাণীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এ সময়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের তুজলি লেগুনস জাতীয় উদ্যানের গবেষক ইভান রুসেভ।
গবেষকদের মতে, যুদ্ধজাহাজের সোনার প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও বিস্ফোরণের শব্দ ডলফিনের শ্রবণশক্তি এবং দিক নির্ণয়ের প্রাকৃতিক ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে খাবার সংগ্রহ ও যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে প্রাণীগুলো। পরে বিভিন্ন ভাইরাস ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে মারা যাচ্ছে তারা।
এ ছাড়া ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি, রাসায়নিক এবং দূষিত পানি মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ২০২৩ সালে ইউক্রেনের কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের ফলে সার, ভারী ধাতু ও যন্ত্রের তেল মিশ্রিত বিপুল পরিমাণ পানিও নদী দিয়ে সাগরে প্রবেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুদ্ধ শেষ হলেও কৃষ্ণসাগরের ডলফিনের স্বাভাবিক সংখ্যা ফিরতে ৩০ থেকে ৫০ বছর লাগতে পারে।
এমআই